১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরামিষ রেস্তোরাঁয় ভোজন

নির্দিষ্ট কোনো দিবসে নয়, বরং সারা বছরই এসব রেস্তোরাঁয় মেলে নানান পদের নিরামিষ।

বিডিনিউজ২৪

আহমেদ ফেরদৌস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Oct 2025, 05:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:32 PM

বাহারি মোগলাই খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে প্রথমেই মাথায় আসে পুরান ঢাকার কথা। তবে কাবাব, বিরিয়ানির স্বাদ ছাপিয়ে মুখের স্বাদে ভিন্নতা যোগ করতে পারে নিরামিষ রেস্তোরাঁগুলো।   

রাজধানীর তাঁতিবাজার ও শাঁখারিবাজারের ‘জগন্নাথ ভোজনালয়’, ‘হরে কৃষ্ণ ভোজনালয়’, ‘অনুরাধা ভোজনালয়’, ‘আদি গোবিন্দ হোটেল’, ‘মদনমোহন ভোজনালয়’ এবং ‘জয় মা তারা’ ভোজনালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভোজনপ্রেমীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে।

এই ভোজনালয়গুলো শুধু খাবার পরিবেশন করে না, বরং প্রজন্ম ধরে চলে আসা রান্নার ঐতিহ্যকেও সংরক্ষণ করে।

যেখানে প্রবেশ করলেই একটি ঘরোয়া পরিবেশ অনুভূত হয়। আর গরম ভাতের প্লেটের সাথে একটি ট্রেতে সুসজ্জিতভাবে মিলবে ১২ থেকে ১৪ রকমের নিরামিষ তরকারি।

এর মধ্যে রয়েছে কাঁচা কলার রসা, মটর ডাল, সাগুদানা ভুনা, পাঁচ তরকারি, লাউ তরকারি, ছানার রসা, কাশ্মিরি পনির, আলু-পটলের রসা, মুগ ডাল, বুটের ডাল, বিভিন্ন শাকভর্তা, সয়াবিন সবজি, কলার মোচার তরকারি এবং পটল-সরিষা ভুনা।

জগন্নাথ ভোজনালয়: একটি নিরামিষ আশ্রয়

জগন্নাথ ভোজনালয়, তাঁতিবাজারের ১১০ নম্বরে একটি ভবনের দোতলায় অবস্থিত। নিরামিষ খাবারের একটি প্রধান কেন্দ্র বলা যেতেই পারে।

এই ভোজনালয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০টি নিরামিষ পদ তৈরি হয়। যার মধ্যে রয়েছে ভর্তা, ডাল, ছানা, বড়া, সয়াবিন, রসা এবং ধোকা। শেষ পাতে পায়েস এবং চাটনি পরিবেশন করা হয়।

একাদশীর সময় এখানে বিশেষ খাবারের আয়োজন থাকে। যেমন- পুষ্পান্ন, খিচুড়ি, সাগুদানা ভুনা এবং শ্যামা দানার পায়েস।

রান্নায় পেঁয়াজ-রসুন বাদ দিয়ে শুধু আদা এবং কাঁচা মরিচ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন পদের দাম ১০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। আর এক প্লেট ভাতের দাম ১৫ টাকা। অতিরিক্ত ভাত ৫ টাকায় পাওয়া যায়।

ভোজনালয়ে একসঙ্গে ৩৫ থেকে ৩৬ জন খেতে পারেন। তবে দুপুর ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভিড় বেশি থাকে।

জগন্নাথ ভোজনালয় পরিচালনাকারীদের একজন গোবিন্দ কৃষ্ণ দাস বলেন, “আমরা প্রতিদিনের চাহিদা হিসেব করে রান্না করি, যাতে খাবার নষ্ট না হয়। নিরামিষ খাবার বাসি হলে কালচে হয়ে যায়, তাই তরতাজা খাবার পরিবেশনই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “এই ভোজনালয়গুলো শুধু খাবারের দোকান নয়। পুরান ঢাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক।”

অনুরাধা ভোজনালয়

৪ তাঁতিবাজারে এটি অবস্থিত। অনুরাধা ভোজনালয় পরিচালনাকারীদের একজন গোকুল চন্দ্র গোপ তথ্য দেন- নাস্তা সকাল ৮টা থেকে পাওয়া যায়। অন্নভোজ ২৫টিরও বেশি পদ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়।

আর বিকেলের আয়োজনে পাস্তা, নুডুলস, সিঙ্গারা, রোলসহ থাকে নানান ‘ফাস্টফুড’।

আধুনিক প্রেক্ষাপটে নিরামিষ খাবার

আজকের দিনে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির সঙ্গে নিরামিষ খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পুরান ঢাকার নিরামিষ ভোজনালয়গুলো নতুন প্রজন্মের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

একজন স্থানীয় গ্রাহক মলয় দাস বলেন, “ছোটবেলা থেকে এখানে খাচ্ছি। স্বাদ আর আন্তরিকতা এখনও অটুট।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী দেবাশীষ মন্তব্য করেন, “খাবারের মান অসাধারণ, তবে দাম একটু কম হলে আরও ভালো হতো।”

এই ভোজনালয়গুলো প্রাথমিকভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও, সব ধর্মের মানুষ এখানে সমানভাবে আসেন।

পূজার সময় এবং শুক্রবারের ছুটির দিনে ভিড় বেশি হয়। গোবিন্দ কৃষ্ণ দাস আর বলেন, “চাইলে আমরাও খাবার হোম ডেলিভারি করে থাকি।’

পুরান ঢাকার নিরামিষ ভোজনালয়গুলো শুধু পেট নয়, মনও ভরায়।

এখানকার খাবারে ঐতিহ্য, স্বাদ এবং হৃদয়ের উষ্ণতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। যারা বাঙালি রান্নার স্বাদে তৃপ্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ভোজনালয়গুলো একটি আদর্শ গন্তব্য।

আরও পড়ুন

রাজধানীতে পথের ধারে পাহাড়ি স্বাদের টানে