যে উপাদান ব্যবহারে শরতে মিলবে উজ্জ্বল ত্বক
শরৎ আর শীতের শুরুতে ত্বকের টানটানভাব ও শুষ্কতা দূর করতে রূপচর্চায় আনতে পারেন সহজ পরিবর্তন।
গ্রীষ্মের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া শেষে শরৎ এবং আসন্ন শীতের আমেজ শুরু হতেই চারপাশের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেও বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দেয়।
অনেকেই খেয়াল করেন যে, এই সময়ে উজ্জ্বল থাকা ত্বক হঠাৎ করেই ম্লান, নিস্তেজ হয়ে পড়ছে এবং মুখ ধোয়ার পর এক ধরনের অস্বস্তিকর টানটান-ভাব তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোনা গোহারা বলেন, “এই সময়ে অন্ধের মতো পুরো রূপচর্চার রুটিন আমূল না বদলে, কিছু ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই ত্বকের আর্দ্রতা, সতেজতা ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।”
‘ইয়েল স্কুল অব মেডিসিন’-এর চর্মরোগ বিভাগের এই সহযোগী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে ত্বকের সুরক্ষায় ৩টি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেন।
হালকা লোশনের পরিবর্তে ত্বকের রক্ষাকবচ রক্ষার ক্রিমের ব্যবহার
গ্রীষ্মকালে ত্বকে যে হালকা পানি-ভিত্তিক ক্রিম, লোশন বা জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হত, শরতের প্রথম ঠাণ্ডা হাওয়া শুরু হতেই সেটিকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে।
ডা. গোহারা বলেন, “এই শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের সুরক্ষাবলয় বা স্কিন ব্যারিয়ার ভেঙে যায়। তাই এখন এমন ক্রিম বেছে নিতে হবে যা সেরামাইডস, কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটি অ্যাসিডস সমৃদ্ধ।
এই প্রয়োজনীয় লিপিড বা চর্বি উপাদানগুলো ত্বকের ভেতরের কোষ পুনর্গঠন করে পানি বাষ্পীভবন হতে বাধা দেয়। বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০ বা ৫০-এর কোঠায়, তাদের ত্বকের টানটান ভাব দূর করে দীর্ঘমেয়াদী ক্রিইমি ও শিশিরস্নাত উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এই ‘ব্যারিয়ার ক্রিম’ সকাল ও রাতে ব্যবহার করা উপকারী।”
গ্রীষ্মের কালো দাগ বা পিগমেন্টেইশন দূর করা
গ্রীষ্মের কড়া রোদ চলে গেলেও ত্বকের ওপর রেখে যায় রোদে পোড়া কালচে ছোপ বা ‘পিগমেন্টেইশন’, যা কেবল মুখে নয়— শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন বগল বা উরুর সংযোগস্থলেও দেখা দিতে পারে।
ডা. মোনা গোহারা এই ধরনের জেদি দাগ দূর করতে ‘থিয়ামাইডল’ নামক উপাদান সমৃদ্ধ বডি লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হাইড্রো কুইনোন-এর মতো ক্ষতিকর কেমিক্যালের তুলনায় থিয়ামাইডল, ত্বককে কোনও ধরনের জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির সমস্যা না তৈরি করে বেশি নিরাপদে ও দ্রুত দাগমুক্ত করে।
তবে এই দাগের চিকিৎসা চলাকালীন বাইরে বের হলে উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। নাহলে সূর্যের অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মির কারণে দাগগুলো আরও বেশি গাঢ় হয়ে যেতে পারে।
ওটসের জাদুকরী ছোঁয়ায় ত্বকের প্রদাহ উপশম
গ্রীষ্মের তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম এবং গরমের কারণে ত্বক ক্লান্ত, খসখসে ও প্রদাহজনিত হয়ে পড়ে।
ডা. গোহারা, ত্বকের এই ক্লান্তি দূর করতে রান্নাঘরে থাকা ওটস বা জই-কে একটি ‘শান্তিদায়ক পাওয়ার হাউস’ বা উপাদান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
‘কলয়েডাল ওটমিল’ বা সুক্ষ্ম ওটসের গুঁড়া ত্বকের জন্য ভালো একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের লালচেভাব ও চুলকানি উপশমে কাজে দেয়।
তবে সকালের নাস্তার ওটস পিষে মুখে লাগানোর ‘নিজে করি’ পদ্ধতি বর্জন করে, ওটমিলের নির্যাস সমৃদ্ধ কোনও মৃদু ক্লিনজার, সেরাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উপকারী হবে।
