০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

রাসেলের গল্প

ইতিহাসের বইয়ে আমরা কতই না বড় বড় মানুষের গল্প পড়ি। কিন্তু আমরা কি কখনও জানতে পারি, যে মানুষটি সাধারণ মানুষের জন্য এত কাজ করলেন তার বাসার মানুষগুলোর সাথে তার ব্যবহার কেমন ছিল? আমাদের বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন, তার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার মানুষকে এতটা ভালোবাসার জন্য বাংলার মানুষ তাকে আদর করে ডাকে বঙ্গবন্ধু। দেশের প্রতিটা মানুষের হৃদয়ের কাছে মানুষটাকে কিন্তু খুব দূরে থাকতে হত তার পরিবার-পরিজন থেকে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

>> মাকসুদা আজীজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2014, 01:14 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:22 PM

তোমরা যখন সকালে অকারণেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকো অথবা ছুটি হলেই বাবার কাছে আবদার কর বেড়াতে যাবে বলে, তখন ছোট্ট রাসেল জানতই না বাবা আর মা যে আলাদা আলাদা মানুষ। রাসেল, বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে ছোট ছেলে। ১৯৬৪ সালে তার জন্ম। হিসাব অনুযায়ী তার বয়স এখন হবার কথা ৫০ বছর। তোমরা তাই হয়ত ভাবছ ৫০ বছরের একটা মানুষ ছোট্ট কীভাবে হয়? কিন্তু রাসেল ১১ বছরের পর আর কিছুতেই বাড়তে পারে নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের বাকি সবার সঙ্গে রাসেলকেও হত্যা করে। ছোট্ট অবস্থায়ই শেষ হয়ে যায় রাসেলের জীবন।

বঙ্গবন্ধুর খুব প্রিয় ব্যাক্তি ছিলেন দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। তার নামেই নিজের সবচেয়ে ছোট সন্তানের নাম রাখেন রাসেল। বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সময়ই জেলে পুরে রাখা হত। জেল বলতে গেলে বঙ্গবন্ধুর একরকম বাড়িই ছিল। অন্যায় না সইতে পেরে তিনি বার বার প্রতিবাদ করতেন। পাকিস্তানি শাসকরা তাই তাকে কথায় কথায় জেলে পুরে রাখত। রাসেলের বাবার সাথে দেখা হত খুব কম।

ছোট্ট রাসেল জেলে গিয়ে বাবাকে বলত, এটা কি তোমার বাসা? তুমি এখনে কেন থাক? বাবা হেসে বলতেন হ্যাঁ এটাই আমার বাসা। রাসেল জেদ ধরত, সেও এখানেই থাকবে বাবার কাছে।

ছোট হলেও রাসেলের চিন্তা কিন্তু ছোট ছিল না। ১৯৭০ সালে সমগ্র পাকিস্তানে একটা নির্বাচন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু সেখানে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন। সবাই বলত বঙ্গবন্ধু এবার প্রেসিডেন্ট হবেন। তখন তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডন্টের বাসায় থাকবেন। সবার কথা শুনে শুনে রাসেল খাবার টেবিলে প্রতিবাদ করে বসে। বাবা প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে হতে পারে কিন্তু এ দেশ এ বাড়ি ছাড়া যাবে না। পাকিস্তান তার দেশ না। সে সেখানে যাবে না। মাকেও যেতে দিবে না, বাবাকেও না।

রাসেলের প্রায় এগারো বছরের জীবনের এরকমই টুকরাটাকরা গল্প নিয়ে লেখা বই, রাসেলের গল্প। সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক, সহিত্যিক বেবী মওদুদের চমৎকার লেখনিতে তোমরা জানতে পারবে বঙ্গবন্ধুর থেকে বেশ দূরত্বে বেড়ে ওঠা ছেলেটা কীভাবে দূর থেকেই বাবার বিশাল ব্যক্তিত্বের ভাগ পেয়ে গিয়েছিল। কেমন ছিল একজন সর্বত্যাগী মহান নেতার পারিবারিক জীবন।

পুরো বইয়ে খুব নিরবে যার কথা বলা হয়েছে, তিনি হচ্ছেন রাসেলের মা বেগম মুজিব। একইসঙ্গে বাবা ও মায়ের আদর দিয়ে যিনি বাচ্চাদের লালন করেছেন। দেশের জন্য বাবার ত্যাগকে বড় করে দেখতে শিখিয়েছেন, বাবার আদর্শে বড় হওয়া শিখিয়েছেন। এই শোকের মাস আগস্টে রাসেলের জন্য আমাদের ভালোবাসা রইল।

বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত রংবেরং ছবিসহ ৪০ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য দুইশত কুড়ি টাকা। তাহলে আর দেরি কেন? ঝটপট সংগ্রহ করে পড়ে ফেল রাসেলের গল্প।