Published : 31 Mar 2026, 06:28 PM
জন্মনিবন্ধন হল শিশুর জন্মের তথ্য লিপিবদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে শিশুর নাম, বাবা-মায়ের পরিচয়, লিঙ্গ পরিচয়, জন্মতারিখ ও জন্মস্থানসহ বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। এটি শিশুর পরিচয়ের একটি স্থায়ী ও সরকারি দলিল। যার মাধ্যমে সব শিশু আইনি পরিচয় লাভ করে।
জন্মনিবন্ধনের পর জন্মসনদ লাভ করা যায়। এই জন্মসনদ শিশুর প্রথম আইনি পরিচয়পত্র। নানা কারণে শিশুর জন্মনিবন্ধন অনেক গুরুত্ব বহন করে।
এটি শিশুর বিভিন্ন অধিকার যেমন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বিচারিক ব্যবস্থার মত সামাজিক সেবাগুলো নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
এছাড়া, জন্মনিবন্ধনের তথ্য থেকে পাওয়া উপাত্ত সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যে তারা কোথায় এবং কীভাবে অর্থ ব্যয় করবে এবং শিক্ষা বা টিকাদানের মতো উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলোতে কোন এলাকাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেবে।
জন্মনিবন্ধন ও জন্মসনদের পার্থক্য
জন্মনিবন্ধন হল তথ্য নথিবদ্ধ করার ‘প্রক্রিয়া’, আর জন্মসনদ হল সেই প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ পাওয়া ‘প্রমাণপত্র’। জন্মসনদ নিশ্চিত করে যে শিশুটির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। সহজ ভাষায়, জন্মনিবন্ধন ও জন্মসনদ একে অপরের পরিপূরক।
কেন প্রয়োজন এই পরিচয়?
জন্মসনদ পাওয়ার একমাত্র আইনি পথ হলো জন্মনিবন্ধন। এই আইনি পরিচয় শিশুকে সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
জন্মসনদ না থাকলে শিশুরা তাদের বয়স প্রমাণ করতে পারে না৷ তখন সে বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে শ্রমে নিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
এছাড়া এটি অভিবাসী ও শরণার্থী শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, পাচার এবং অবৈধ দত্তক নেওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়।
নিবন্ধনহীন শিশুরা 'রাষ্ট্রহীন' হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে, যার অর্থ কোনো দেশের সঙ্গেই তাদের আইনি বা জাতীয়তার সম্পর্ক থাকে না।
জন্মসনদ ছাড়া অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পায় না।
তারা স্কুলে ভর্তি হতে বা পরীক্ষায় অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে এবং তারা দারিদ্র্যের চক্রে আটকা পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভোট দেওয়া, পাসপোর্ট পাওয়া, আনুষ্ঠানিক চাকরিতে যোগ দেওয়া, সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া বা সরকারি সামাজিক সহায়তা পাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এই দাপ্তরিক পরিচয়ের প্রয়োজন হয়।
বিশ্বে কত শিশু নিবন্ধনের বাইরে?
পরিসংখ্যান বলছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন নিবন্ধিত নয়। এই শিশুদের অর্ধেকই বাস করে কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানে। ধারণা করা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর কাছে কোনো বৈধ জন্মসনদ নেই।
সব শিশুর জন্ম নিবন্ধন কেন হচ্ছে না?
শিশুদের নিবন্ধিত না হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই শিশুরা দরিদ্র পরিবারে জন্মায় এবং দুর্গম এলাকায় বাস করে যেখানে নিবন্ধন সেবা পাওয়া কঠিন।
আবার বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম নেই। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা জন্মনিবন্ধন সম্পর্কে জানেন না বা এর গুরুত্ব বোঝেন না। খরচও একটি বড় বাধা। নিবন্ধন কেন্দ্রে যাওয়ার যাতায়াত খরচ কিংবা বিলম্ব ফি দেওয়ার সামর্থ্য অনেকের থাকে না।
নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে জন্মনিবন্ধনের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। এর কারণ হতে পারে তাদের সংস্কৃতিতে নামকরণ অনুষ্ঠানের মত নানা প্রথা বেশি গুরুত্ব পায়, অথবা তারা প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় বাস করে কিংবা সরকার তাদের স্বীকৃতি দেয় না।
এছাড়া বেশ কিছু দেশে সন্তান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের সমান অধিকার পান না। কেউ কেউ মোটেও নিবন্ধন করতে পারেন না, আবার কাউকে সন্তানের বাবার উপস্থিতি সাপেক্ষে নিবন্ধন করতে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।