Published : 18 Aug 2026, 09:59 PM
জন্মগতভাবে যেসব শিশুর লিঙ্গে ত্রুটি দেখা যায়, সার্জারির মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধানের কথা বলছেন চিকিৎসকরা।
এর জন্য শিশুসহ তার পরিবারকে সঠিক পরামর্শ, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র মেনে নিয়মিত ওষুধ সেবন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তারা।
ঢাকার অ্যালায়েন্স হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুরে ‘জেন্ডার কনফারমেশন সার্জারি ইন চিলড্রেন: অ্যান আপডেট’ শিরোনামে হওয়া সেমিনারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেড্রিয়েটিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিউল হাসান।
তিনি বলেন, “একজন নারী গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে পরিবার এবং আশেপাশের মানুষের প্রশ্ন থাকে ছেলে নাকি মেয়ে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে ছেলে অথবা মেয়েই হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে লিঙ্গের ত্রুটি নিয়ে অল্পসংখ্যক বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে।
“এরপর পরিবার ও শিশুরা অনেক বড় মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হল ইমোশনাল সহযোগিতা ও সঠিক পরামর্শ, যেটি ডাক্তাররা দিতে পারেন।”
জেনেটিক্যাল ডিসঅর্ডার, ক্রমোজমাল ও হরমনাল সমস্যাসহ নানা কারণে এমন শিশু জন্মগ্রহণ করতে পারে জানিয়ে সমাধানের বিষয়ে এ চিকিৎসক বলেন, “আমাদের দেশের বাস্তবতায় এমন শিশু জন্ম হওয়ার পর অনেকে কোনো ধরনের পরামর্শ নিতে পারে না সামাজিক ট্যাবুর কারণে। বর্তমানে মেডিকেল চিকিৎসার উন্নয়নে এমন ত্রুটি সার্জারির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়।”
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং অ্যালায়েন্স হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে প্রায় চার বছরে লিঙ্গ নিশ্চিতে ২৮ শিশুর সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার কথা তুলে ধরা হয় সেমিনারে।
এর মধ্যে ২০২৩ সালে তিনজন, ২০২৪ সালে চারজন এবং গত দুই বছরে ২১ জনের এমন সার্জারি হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান বক্তা অধ্যাপক সামিউল হাসান বলেন, “এমন বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর সবার আগে তার জেনেটিক্যাল সঠিক অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। কারণ অনেক সময় জেনেটিক্যাল ছেলে হলেও মেয়ের মত হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
“তাই জেনেটিক্যাল বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর যদি ছেলে ক্রোমোজম পাওয়া যায় বেশি, তাহলে পুরুষ লিঙ্গ বিকাশে সার্জারি করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে পরিবার ও সেই শিশুর সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ।”
সার্জারি করানোর সময় নিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, “আন্তর্জাতিক গবেষণায় অল্প বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সার্জারি বেশি সফল হয়। তবে সার্জারির বিষয়ে পরিবার ও সেই শিশুর সিদ্ধান্তও নিতে হয়। অনেক সময় বড় হওয়ার পরও কেউ সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক রয়েছে।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় সার্জারির পর যখন ওষুধ খেতে বলা হয়, অনেকে মনে করতে পারেন সার্জারি সফল হয়নি। কিন্তু বিষয়টা হল তারা জন্মগতভাবে হরমোনাল ইমব্যালেন্স নিয়ে পৃথিবীতে আসে। তাই লিঙ্গ ও অনুভূতির সঠিক বিকাশের জন্য সারাজীবন ওষুধ খেতে হতে পারে।”
সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এমন শিশুর পরিবার আগে ডাক্তারের কাছে আসতে চাইত না। কারণ বিষয়টি আমাদের দেশে সামাজিক ট্যাবুর মত। তবে গত দুই বছর ধরে কিছু পরিবার আসা শুরু করেছে। এমন ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারকে বিশাল ট্রমার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।”
এজন্য শিশু ও পরিবারকে জন্য দীর্ঘ কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দেন তিনি।
অ্যালায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক বায়েজিদ হোসেনের সঞ্চালনায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।