১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ‘চিকিৎসক, নার্স কেউই ছিলেন না’

“ডাক্তার ও নার্সরা সঠিক সময়ে না থাকায় সব বাচ্চা মারা গেছে,” মনে করেন যমজ সন্তান হারানো হাসান সরদার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2026, 11:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:44 PM

ঢাকার বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর রাতে ডাকাডাকি করে চিকিৎসক বা নার্স— কাউকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন যমজ সন্তান হারানো এক বাবা। 

তার ভাষ্য, চিকিৎসক ও নার্সরা ‘সঠিক সময়ে’ না থাকার কারণে এসব বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। 

কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ’ সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে।

এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্ত করলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তারা এটি সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলেছে। 

সেদিন যে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়, তার মধ্যে মোহাম্মদ হাসান সরদারের যমজ সন্তানও রয়েছে। 

বরিশালে বউফল থানার এ বাসিন্দা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বউয়ের সিজারের পর জমজ দুই ছেলেই সুস্থ। মঙ্গলবার রাতে বাবা বলে ডাকলাম, চোখ মিট মিট করল। 

“বুধবার সকালে রিলিজ দেওয়ার কথা, কিন্তু দিছে ডেথ সার্টিফিকেট।" 

হাসান বলেন, তার পরিবার ও স্বজনদের অনেকেই এর আগে  আদ দ্বীন হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছেন। সেই সুবাদে তিনিও ঢাকার এই বেসরকারি হাসপাতালে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে আসেন। 

“আমার বউয়ের চেক আপ করার পর যখন জানতে পারি, জমজ বাচ্চা হবে। তখন থেকে চিন্তা করছিলাম ভালো একটা জায়গায় ডেলিভারি করামু। কিন্তু এখানে আসার পর ঘটনা উল্টা হইছে।” 

তিনি বলেন, “বাচ্চা হওয়ার পর যেখানে রাখা হয়, সেখানে পুরুষ মানুষের ঢোকা নিষেধ। তাই আমি যেতে পারিনি। আমার বোন একবার বাচ্চাকে দেখাইছে। এরপর বউ আর বাচ্চা সবাই সুস্থ। মঙ্গলবার রাতে আবার একবার বাচ্চাদের দেখাতে বললাম। বোন বাচ্চাদের বাইরে নিয়ে আসে।

"এরমধ্যে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে নাকি ওই রুমে অনেক গরম আর একটা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমার বোনসহ আরো অনেকেই ডাক্তার ও নার্সদের ডাকতে বলে, কিন্তু তারা কেউ ছিলেন না। যারা ঝাড়ু দেন, তাদের দিয়ে কয়েক বার বলানোর পরেও নার্স নাকি আসেনি।"

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সকালে আমি ঘুম থেকেও উঠিনি; হাসপাতাল থেকে কল দিয়ে বলা হলো, দ্রুত আসেন। আসার পর জমজ বাচ্চার মৃত বলো জানায়। এটি শোনার পর কী করব, তাও বুঝি না।

“ডাক্তার এবং নার্সরা সঠিক সময়ে না থাকায় সব বাচ্চা মারা গেছে।” 

হাসান সরদার বলেন, “বাচ্চা মারা যাওয়া পর তাদের নিয়ে যেতে বলা হয়। বউয়ের পেট কাটা, তার চিকিৎসার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি; কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। একরকম বের করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাসায় মুরব্বিরা অন্য ছেলেদের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখার জন্য কথা বলতেছিল। আমার আরো তিন ছেলে আছে। তাদের নাম অনুসারে এদেরও নাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তারা মারা গেল।” 

আরো পড়ুন

আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ ও বিচার চেয়ে উকিল নোটিস

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: তিন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে চলছে তদন্ত

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু রেখে গেল অনেক প্রশ্ন