Published : 06 Oct 2025, 07:48 PM
নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ছয় দাবিতে ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া কর্মবিরতি ‘আংশিক’ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারাদেশে শুরু হতে যাওয়া টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন তারা।
সোমবার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে।
সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। বৈঠক শেষ হয় দুপুর ১২টার দিকে।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় দাবি আদায় পরিষদের সদস্য সচিব মো. ফজলুল হক চৌধুরী সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১২ অক্টোবর সারাদেশে টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এ কর্মসূচি যেহেতু একবারই হয়, তাই কর্মসূচি ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তারা আংশিক প্রত্যাহার করেছেন। তবে এ সময় তাদের অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, “সামনে পরীক্ষা, এ সময় স্কুলও বন্ধ হয়ে যাবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবও নাই। আমরা আজ ডিজি স্যারের সঙ্গে দুই-আড়াই ঘণ্টা মিটিং করেছি, জেলা-উপজেলায় আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ সময় ইপিআই এবং অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শুধু টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে।
“এর মধ্যে যদি আমাদের দাবি পূরণে দৃশ্যমাণ কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে ৩০ অক্টোবরের পর থেকে আবার পুরোদেম কর্মসূচি চলবে।”
৬ দফা দাবি আদায়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কর্মবিরতি ঘোষণা করে স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন।
সেদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেয় ‘বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন’।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চালান স্বাস্থ্য সহকারীরা। টিকাদানের কাজটি ‘টেকনিক্যাল’, কিন্তু তারা ‘টেকনিক্যাল’ পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এ পদমর্যাদা না পাওয়ায় তারা বেতনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপর তারা কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেন। প্রতিবারই মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করে কাজে ফেরেন।
চলতি বছরেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাসও বাস্তবায়ন হয়নি।
২৮ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বারবার দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে তারা নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবিগুলো হল-
>> নিয়োগবিধি সংশোধন
>> শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক/সমমান সংযোগ
>> ১৪তম গ্রেড দেওয়া
>> ‘ইন-সার্ভিস’ ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ
>> ‘টেকনিক্যাল’ পদমর্যাদা দেওয়া
>> পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড দেওয়া