১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চলতি বছর নিপা ভাইরাসে দেশে ‘প্রথম মৃত্যু’

ভাইরাসটি মূলত শূকর ও ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়ায়।

চলতি বছর নিপা ভাইরাসে দেশে ‘প্রথম মৃত্যু’
গাছ থেকে পড়া আধা খাওয়া ফল না খাওয়া এবং সব ধরনের ফল ধুয়ে খেলে নিপা ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Feb 2026, 06:40 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:53 PM

নিপা ভাইরাসের সংক্রমণে নওগাঁয় এক নারীর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট— আইইডিসিআর।

চলতি বছর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে এটিই প্রথম মৃত্যু বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। 

আইইডিসিআরের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা শনিবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই নারী নিপা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। 

“বিষয়টি জানার পর আমরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নিপা ভাইরাসে চলতি বছর এটাই প্রথম মৃত্যু।”

গত ২৮ জানুয়ারি ওই নারীর মৃত্যু হয় বলে জানান শারমিন সুলতানা।

দেশে নিপা ভাইরাসে সবশেষ মৃত্যু হয় গত বছরের অগাস্টে। গেল বছর দেশটিতে চারজনের মৃত্যু হয়।

নিপা ভাইরাস মূলত শূকর ও ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানবদেহে ছড়ায়। এসব প্রাণীর সরাসরি সংস্পর্শে এলে বা এদের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।

মানুষের দেহে প্রবেশের পর এ ভাইরাস সাধারণত চার থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। সংক্রমণের প্রাথমিক বিভিন্ন লক্ষণ হচ্ছে, তীব্র জ্বর, বমি বমি ভাব, বমি ও শ্বাসকষ্ট, যা পরবর্তীকালে নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে বিপজ্জনক প্রদাহ বা ফোলা তৈরি করে এই রোগ। যার ফলে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব ও খিঁচুনির মতো স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ভাইরাস একজন থেকে অন্য কারো দেহে ছড়ানোর হার কম হলেও একে মহামারীর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কারণ, এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নেই। এর মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা কোভিড-১৯-এর তুলনায় বেশি।