বোঝাবুঝি পরে, আগে খেয়াল শুনতে আসুন: আহ্বান সুমনের
ঢাকার সংগীপ্রেমীদের সামনে ১৮ অক্টোবর খেয়াল নিয়ে আসছেন কবীর সুমন।
উচ্চাঙ্গ সংগীত নিয়ে ‘ভয়’ কাটিয়ে খেয়াল শুনতে আসতে বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের প্রতি আহ্বান রেখেছেন কবীর সুমন।
তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে এই প্রথম আমি বাংলা খেয়ালের অনুষ্ঠান করব। আপনারা শুনতে এলে আমার খুব ভালো লাগবে।”
এবার ঢাকায় যে তিন দিনের গানের অনুষ্ঠান করছেন সুমন; তার দ্বিতীয় দিনে ১৮ অক্টোবর খেয়াল নিয়ে আসছেন তিনি।
রাগ সংগীতের মধ্যে কণ্ঠ আর তবলার সঙ্গতে সৃষ্ট চমৎকার শৈলী খেয়ালকে অনেক উঁচুতে স্থান দেন সঙ্গীতজ্ঞরা। সুমন আধুনিক গান দিয়ে জনপ্রিয়তা পেলেও দীর্ঘদিন খেয়াল চর্চা করে আসছেন।
তবে সুমনের এবারের সফরে আধুনিক গানের দুদিনের টিকেট চটজলদি বিক্রি হয়ে গেলেও খেয়ালের টিকেট এখনও রয়ে গেছে।
শনিবার আধুনিক গান নিয়ে ঢাকার শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন সুমন; তারপর আবার আধুনিক গান গান নিয়ে আসবেন ২১ অক্টোবর। ফাঁকে ১৮ অক্টোবর গাইবেন খেয়াল।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান পিপহোলের কর্মকর্তা মীর আরিফ বিল্লাহ রোববার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৮ তারিখের বাংলা খেয়াল অনুষ্ঠানের টিকেট এখনও কিছু অবশিষ্ট আছে। শাহবাগের পাঠক সমাবেশ এবং রঙ বাংলাদেশের বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত স্কয়ার ও নারায়ণগঞ্জের টোকিও স্কয়ারের আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে।”
এরমধ্যেই কবীর সুমন এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের মানুষকে খেয়াল শোনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলা খেয়াল শোনার জন্য বাঙালি হওয়ার প্রয়োজন নেই, বাংলা ভাষা যারা বোঝেন তাদেরই জন্য বাংলা খেয়াল।
খেয়াল নিয়ে ভয় কাটার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “খেয়াল সম্পর্কে একটা ভয় কাজ করে লোকের মধ্যে। বিশেষ করে যারা ক্লাসিক্যাল মিউজিকের লোক, তারা কথায় কথায় বলে কী বোঝ? শুনবে যে, কী জান? কী বোঝ? এই বলে তারা মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়।
“যারা বাংলায় এসব বলেন তাদের যদি উল্টো করে বলা হয়, আপনি বাংলায় কথা বলছেন বোঝাতে পারবেন, এগুলো কী? বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? বোঝাতে পারবেন? কাজেই বোঝাবুঝির কী আছে? শুনতে যদি ভালো লাগে, তাতেই ভালো।”
বাংলা খেয়াল চর্চার ক্ষেত্রে সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমানকে স্মরণ করেন সুমন। তিনি বলেন, “তিনি বাংলা খেয়ালের জন্য প্রচুর চেষ্টা করেছেন।”
নিজের খেয়াল চর্চার ইতিবৃত্ত তুলে ধরে সুমন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি খেয়াল শিখেছিলাম নানান হিন্দুস্তানি ভাষায়। পাঞ্জাবের দুটি ভাষা, পাঞ্জাবি ও মুলতানি এতেও খেয়াল রচিত হয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমি চেষ্টা করে চলেছি আমার মাতৃভাষায় খেয়ালের বন্দিশ বা খেয়াল রচনা করতে এবং পূর্ণাঙ্গ খেয়াল গাইতে।
“আমার ৭৩ বছর চলছে। আর বেশি দিন তো নেই। আরও অনেক বছরও যদি বাঁচি, এই গলাটা তো আর থাকবে না। সুর তো থাকবে না। তাই যতদিন আছি, সকলে যদি শোনেন আমার খুব ভালো লাগবে।”
বাংলা খেয়ালকে গান হিসেবে দেখার কথাও বলেন তিনি।
“দীর্ঘকাল ধরে খেয়াল যেভাবে গাওয়া হচ্ছে, শুনতে খুব একটা ভালো লাগার কথা না। গান হিসেবে কিন্তু আমরা খেয়ালকে দেখি না। এটা তো একটা গান, আঙ্গিক। সেভাবে যদি দেখি তাহলে আমার মনে হয় বাংলা খেয়াল কাউকে নিরাশ করবে না। কারণ অর্থপূর্ণ ভাষায় আমি বাংলা খেয়াল গান রচনা করেছি।
“হিন্দুস্তানি ভাষায় যে খেয়াল রচিত হয়েছে, তাতে যে বিষয়, উচ্চারণ ছিল- সত্যি কথা বলতে কি তার সাথে বাঙালির মননের বা বাংলা ভাষায় যারা অভ্যস্ত তাদের ভাষাবোধের সাথে খুব একটা মিল নেই।”
