১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভালো চিত্রনাট্যের 'অভাব মেটাতে' গাঙ্গুলি পরিবারের নতুন উদ্যোগ

স্ত্রী অভিনেতা চূর্ণি গঙ্গোপাধ্যায় এবং ছেলে তরুণ অভিনেতা উজান গঙ্গোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ভালো চিত্রনাট্যের একটি ভাণ্ডার ‘রাইটার্স ব্যাঙ্ক’ তৈরি করেছেন নির্মাতা কৌশিক।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jan 2024, 09:50 AM

Updated : 05 Jan 2024, 09:50 AM

কলকাতার নির্মাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় মনে করেন, ভালো চিত্রনাট্যের অভাব আছে তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। সেই ঘাটতি মেটাতে কেবল হা-হুতাশ করে দায় সারেননি এই নির্মাতা।

স্ত্রী অভিনেতা চূর্ণি গঙ্গোপাধ্যায় এবং ছেলে তরুণ অভিনেতা উজান গঙ্গোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ভালো চিত্রনাট্যের একটি ভাণ্ডার  তৈরি করেছেন তিনি। একে বলা হচ্ছে ‘রাইটার্স ব্যাঙ্ক’, তবে পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য স্ক্রিনপ্লেয়ার্স’।

আনন্দবাজারকে কৌশিক বলেন, কাজটি শুধুমাত্র তার পরিবারের মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকবে তা নয়। যে কেউ চাইলে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন।

“আমি বিশ্বাস করি, আমাদের বাংলায় ভাল চিত্রনাট্যকারের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে মৌলিক চিত্রনাট্যের অভাবও। তাই আমরা ভালো গল্পের ভাণ্ডার তৈরি করতে চাইছি।

“আমরা তিনজন একসঙ্গে চিত্রনাট্যকে ঘষামাজা করে তৈরি করব। বাইরে থেকে কোনো পরিচালক বা প্রযোজক এসেও আমাদের থেকে গল্প নিতে পারেন।”

এই ভাবনার সূত্রপাত কীভাবে, সেই প্রশ্নে কৌশিক  বলেন, “এটা কিন্তু ওই দোকান খুললাম, এবার সবাই এসে এখান থেকে কনটেন্ট নেবেন, সে রকম নয়। আমরা তিনজনই সাহিত্যের ছাত্র। দেখেছি, বাড়িতে তিন জন বসলে বিভিন্ন ভাবনার আদানপ্রদান হয়। সেটাকেই আমরা নিয়ম মেনে লিপিবদ্ধ করে রাখতে চাইছি।”

 ‘অসুখ বিসুখ’ সিনেমায় কৌশিকের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন উজান। পরে চিত্রনাট্যকেও ঘষামাজা করে একটা অন্য আঙ্গিক দেন তিনি।

কৌশিক বললেন, “উজান ভালো লেখে। ভবিষ্যতে হয়ত পরিচালনাও করবে। আমরা এখন থেকেই তিনজনে মিলে ভালো কনটেন্ট তৈরির ওপর জোর দিতে চাইছি।”

বলিউডে দীর্ঘ দিন ধরে মৌলিক কাহিনীর ভাণ্ডার বাড়াতে বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা বা চিত্রনাট্যকাররা একজোট হয়ে কাজ করছেন। তবে কলকাতায় এই ভাবনা নতুন জানিয়ে কৌশিক বলেন, “আমি এ বিষয়টা নিয়ে খুব বেশি প্রচার করতে চাইনি। আজকে হয়ত বিষয়টা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। কিন্তু আমার বিশ্বাস, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রত্যেকেই এ উদ্যোগের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।”

এই উদ্যোগ যে ভবিষ্যতে প্রযোজনাতেও পা রাখতে পারে, সেই সম্ভাবনাও দেখছেন উজান।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য কনটেন্ট ব্যাঙ্কিং। সেই গল্পগুলো বাড়িতেই তৈরি হবে। বিদেশে একসঙ্গে মিলে লেখার উপরে খুব জোর দেওয়া হয়। কারণ কোনো একজনের একরৈখিক দৃষ্টিভঙ্গি যে কোনো বিষয়ের জন্যই খারাপ। অন্য কারও গল্পকেও আমরা আরও ডেভেলপ করতে পারি।”

কৌশিক জানালেন, তারা ইতোমধ্যে কলকাতা এবং কলকাতার বাইরে বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

উজান বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের জন্য ভারতের প্রেক্ষাপটে তৈরি একটি অ্যানিমেশন শোয়ের কাজও শুরু করেছেন। তবে এই মুহূর্তে নতুন কাজগুলো নিয়ে বাড়তি তথ্য দিতে নারাজ পিতা-পুত্র।