Published : 31 Jul 2023, 04:20 PM
‘অভিমান’ সিনেমা নির্মাণে পরিচালকের প্রস্তাবে প্রযোজনায় এগিয়ে আসেন অমিতাভ-জয়া। ঠিক করেন, দুজনের মিলিত নামে প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তুলবেন তারা। অমিতাভ তার ব্লগে লিখেছিলেন, “অমিতাভের ‘অমি’ আর জয়ার ‘য়া’ মিলিয়ে তৈরি হয় প্রযোজনা সংস্থা ‘অমিয়া’। আর এই ‘অমিয়া’র অর্থলগ্নিতে তৈরি হয় ‘অভিমান’।
কেবল দর্শক নয়, অভিনয় শিল্পী-নির্মাতাদের কাছেও সিনেমাটি ‘অনবদ্য। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দি সিনেমার নির্মাতা করণ জোহর ‘অভিমান’কে তার প্রিয় সিনেমা বর্ণনা করে বলেছিলেন, “অসংখ্যবার অভিমান দেখেছি, যতবার দেখি, ততবার কেঁদে ফেলি।“অভিনেত্রী বিদ্যা বালান বলেছেন, সিনেমাটি তিনি নয়বার দেখেছেন। তার ভাষায় এই সিনেমা ’চিরন্তন ও কালজয়ী। মঞ্চাভিনেত্রী মনীষা ভাস্করের মতে, ভারতীয় সমাজের প্রেক্ষাপটে, ‘অভিমান’ এর গল্পটি বাস্তবসম্মত বলেই আজও এর জনপ্রিয়তা বহমান।
অমিতাভ-জয়া দুজনেই মনে করেন, তাদের ক্যারিয়ারকে শক্তহাতে বেঁধে দিয়েছিল ওই সিনেমা। অমিতাভের ভাষ্য, তাদের সৃজনশীল কাজগুলোর মধ্যে ‘অভিমান’ অন্যতম এবং স্মরণীয়। ১৯৭৪ সালে ‘অভিমান’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা নারী শিল্পী হিসেবে জয়া বচ্চন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জেতেন।
এ সিনেমার গল্প কি সত্য ঘটনা ঘিরে? অনেকে এ সিনেমার উমা-সুবীরের সঙ্গে সেতারবাদক রবিশঙ্কর আর তার প্রথম স্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর (ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের কন্যা) জীবনের মিল পান। তবে নির্মাতা হৃষিকেশ দর্শকদের সেই অনুমান উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, গায়ক কিশোর কুমার এবং তার প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী রুমা গুহঠাকুরতার দাম্পত্য গল্পের ছায়া আছে তার এই ছবিতে।
এ সিনেমায় লতা মঙ্গেশকর এবং কিশোর কুমারের গাওয়া ‘তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে র্যায়না’ গানটি এখনও শোনা হয় ইউটিউবে। সিনেমার সংগীত পরিচালক শচীন দেববর্মন গানটি বেঁধেছিলেন রবি ঠাকুরের ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ গানের সুরের আশ্রয়ে। এ সিনেমায় কাজের জন্য শচীন দেববর্মন পেয়েছিলেন সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার।
সুবীর (অমিতাভ বচ্চন) সিনেমায় উমার (জয়া বচ্চন) প্রেমে পড়েছিলেন তার গান শুনেই। সুবীর নিজেও একজন গায়ক। দুজনের প্রেম থেকে বিয়ে। বিয়ের পর উমাকে গানের বড় জগতে নিয়ে আসেন সুবীরই। এরপর তরতর করে এগিয়ে যায় উমার ক্যারিয়ার। যা মেনে নিতে পারেননি সুবীর। তৈরি হয় সম্পর্কের টানাপড়েন, যা রূপ নেয় চরম তিক্ততায়।
উমার গানের জগতের সাফল্য মানতে অপারগ সুবীর রুদ্ধ করেন তার স্ত্রীর গান। সেই অভিমানে গলা থেকে সুর হারিয়ে যায় উমার। কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে এসে নিজের কাজের অনুতাপ-গ্লানিতে বিদ্ধ হন সুবীর। বোধদয়ে গানে এবং জীবনে ফিরিয়ে আনেন উমাকে। আর উমার গলায় গান ফেরাতে সুবীর আয়োজন করেন একটি স্টেজ শো। যেখানে সুবীর শুরু করেন তাদের দুজনের প্রিয় গান ‘তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে র্যায়না’। ধীরে ধীরে তাতে গলা মেলান উমা।