০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইলিয়াস কাঞ্চনের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’, ঠিক হয়নি ফেরার তারিখ

“দূর থেকেই ইলিয়াস কাঞ্চন সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও জাতীয় দিবসগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিচ্ছেন।”

ইলিয়াস কাঞ্চনের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’, ঠিক হয়নি ফেরার তারিখ

ইলিয়াস কাঞ্চন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 08:19 PM

Updated : 03 Nov 2026, 08:19 PM

লন্ডনে চিকিৎসাধীন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ‘অনেকটাই স্থিতিশীল’ আছে বলে তথ্য দিয়েছেন তার সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) এর মহাসচিব লিটন এরশাদ।

বর্তমানে অভিনেতা লন্ডনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এরশাদ বলেন, “ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই উন্নত ও স্থিতিশীল। দেশ থেকে ১২ অগাস্ট যাওয়ার পর থেকেই তিনি সুস্থ, মাঝে ২-৩ দিন কিছুটা অসুস্থতা দেখা দিলেও চিকিৎসকেরা তার ওষুধ পরিবর্তন করার পর বর্তমানে তিনি আবার স্থিতিশীল আছেন।

“চিকিৎসকরা তার এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তাকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হতে পারে।”

তবে আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এরশাদ বলেন, “চিকিৎসকরা পুরোপুরি সবুজ সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত তার দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব হচ্ছে না।”

ইলিয়াস কাঞ্চন নিয়মিত দেশের ও সংগঠনের খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এরশাদ বলেন, “দূর থেকেই ইলিয়াস কাঞ্চন সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও জাতীয় দিবসগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস (২২ অক্টোবর) যথাযথ মর্যাদায় পালন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন।”

অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও কাঞ্চনের মনোবল ‘অত্যন্ত শক্ত রয়েছে’ বলে ভাষ্য এরশাদের।

মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে মেয়ের বাসায় থাকছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর দুই ধাপে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।

১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেশে ফিরেছিলেন। এরপর এক সপ্তাহের বেশি সময় দেশে কাটিয়ে গত ১২ অগাস্ট চিকিৎসার জন্য ফের যুক্তরাজ্যে যান।

এর আগে ইলিয়াস কাঞ্চনের অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে তার ছোট ছেলে ও নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয় জানিয়েছিলেন, টিউমারটির অবস্থান মস্তিষ্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুসংযোগে হওয়ায় চিকিৎসকেরা তা পুরোপুরি অপসারণ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, “পুরো টিউমার কাটতে গেলে বাকশক্তি হারানো বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার মত বড় ঝুঁকির আশঙ্কা ছিল। পরবর্তীতে বায়োপসি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে তিনি ব্রেইন ক্যানসারে আক্রান্ত। অস্ত্রোপচারের পর তাকে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় কেমোথেরাপি এবং ওরাল থেরাপি নিতে হয়েছে।”

দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার কারণে এই প্রবীণ অভিনেতার শারীরিক দুর্বলতা রয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবে গুছিয়ে কথা বলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্তের ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে কয়েকশ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান।

১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর থেকে তিনি দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’।

পুরনো খবর:

ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো আছেন, মৃত্যুর খবরে নিসচার ক্ষোভ
লন্ডনে ফিরে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, শুরু হবে চিকিৎসার নতুন ধাপ