সালমান শাহ ছিলেন স্মার্ট নায়ক: ফজলুর রহমান বাবু

‘ইতি কথা’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে সালমান শাহর সঙ্গে কাজ করেছিলেন ফজলুর রহমান বাবু।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Sept 2022, 09:35 AM
Updated : 6 Sept 2022, 09:35 AM

বাংলা সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করেছেন এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু।

সোমবার রাতে ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সালমান শাহ বেঁচে থাকলে হয়ত বাংলা চলচ্চিত্র আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারত।

“একজন স্মার্ট নায়ক বলতে যা বোঝায়, সেটা ছিল সালমান শাহ। মানুষের সঙ্গে কীভাবে মিশতে হয়, সেটা সালমান শাহ জানত। সালমান শাহর মত একজন চলচ্চিত্র নায়কের অকালে চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য কষ্টের এবং ক্ষতির।”

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যু হয়। সেদিন ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। ময়না তদন্ত রিপোর্টে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হলেও তার পরিবার বা ভক্তদের অনেকে তা মানতে রাজি নন।

সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করা না হলেও টেলিভিশন নাটকে সালমান শাহ এবং ফজলুর রহমান বাবু একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। মামুনুর রশীদের লেখা ও আলাউদ্দীন আহমেদের প্রযোজনায় ‘ইতি কথা’ নামে একটি ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছিল তাদের।

ফজলুর রহমান বাবু বলেন, “ওই নাটকটি ছিল আমার প্রথম দিকের কাজ। নাটকে আমার চরিত্র ছিল ‘পরান মাঝি’। গানপাগল মানুষ। সালমান শাহর চরিত্রটিও ছিল গানপাগল ছেলে, বিদেশ থেকে দেশে আসে। জমিদারের নাতি, গিটার বাজিয়ে গান করে।”

শুটিংয়ের সময়ের একটি ঘটনা স্মরণ করে বাবু বলেন, “সালমান শাহ তখন হিরো। তখন একটা ব্যাপারে ছিল, যে হিরোদের জন্য শুটিং সেটে আলাদা চেয়ার থাকত। ওর একজন অ্যাসিস্টেন্টও ছিল। এই ব্যাপারটি আমার জানা ছিল না।

“একদিন শুটিংয়ের সময় হুট করে হিরোর চেয়ারটাতে আমি বসে পড়েছি। ওর অ্যাসিস্টেন্ট ছুটে এসে বলছে, ‘তাড়াতাড়ি উঠেন। এটা হিরোর চেয়ার। এখানে বসা যাবে না।’

“তখনই প্রথম জানলাম যে শুটিংয়ে হিরোর জন্য আলাদা চেয়ার থাকে। আমি তো থমকে গেছি। এর মধ্যেই সালমান শাহ এগিয়ে আসে এবং ওর অ্যাসিস্টেন্টকে ধমক দেয়। আমাকে বলে, ‘বাবু ভাই আপনি বসেন’।”

ওই ঘটনার মধ্য দিয়েই সালমান শাহর সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে উঠে বলে জানান বাবু। পরে অভিনেতা তুষার খানের মাধ্যমে সেই বন্ধুত্ব আরও ঘণিষ্ঠতায় রূপ নেয়।

“তুষার আর আমি একই নাট্যদলে মঞ্চে কাজ করি, আরণ্যক নাট্যদলে। সালমানের সঙ্গে তুষারের আগে থেকেই ভালো বন্ধুত্ব ছিল। পরে আমার সঙ্গেও সালমানের ভালো একটা বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সিনেমায় আমরা একসঙ্গে কাজ করিনি। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক ছিল।”

সালমান খুব আড্ডাবাজ ছিলেন জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, “তুষার আমি আর সালমান শাহ অনেক আড্ডা দিয়েছি। ও খুব আড্ডাবাজ এবং দিলখোলা মানুষ ছিল।”

নির্মাতা সোহানুর রহমানের হাত ধরে ক্যারিয়ার শুরু হয় সালমানের। জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর বাংলায় পুনঃনির্মাণের সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল সেই চলচ্চিত্র।

এরপর ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘তোমাকে চাই’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘আশা ভালবাসা’, ‘জীবন সংসার’, ‘মহামিলন’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘আঞ্জুমান’সহ মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ। অধিকাংশ সিনেমাই দারুণ দর্শকপ্রিয়তা পায়।

সালমান শাহ প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন আশির দশকের মাঝামাঝিতে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র একটি গানে মডেলিংয়ের মধ্য দিয়ে ছোটপর্দায় অভিষেক হয়েছিল তার।

গানে একজন মাদকাসক্ত কিশোরের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ‘পাথর সময়’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। সেটিই তার প্রথম নাটক।

পরে ‘আকাশ ছোয়াঁ’ নামে আরও একটি নাটকে দেখা যায় তাকে। এরপর একে একে ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফিরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘ইতি কথা’ নাটকে অভিনয় করে পরিচিত পান।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে সালমান শাহর জন্ম। ঢাকার ধানমণ্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে এসএসসি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বিকম পাস করেছিলেন এই অভিনেতা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক