Published : 16 Jan 2024, 05:24 PM
হলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের স্ক্রিপ্ট লেখকদের ধর্মঘট অবশেষে শেষ হতে চলেছে। প্রায় পাঁচ মাসের অচলাবস্থা শেষে লেখকদের সংগঠন 'রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা' (ডব্লিউজিএ) সংকট সমাধানে হলিউডের স্টুডিওগুলোর সঙ্গে একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছেছে।
'ডব্লিউজিএ' চাইছে, কাজ শুরু করার আগে স্টুডিওর প্রতিনিধিত্বকারী 'অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসারস'র (এএমপিটিপি) সঙ্গে তিন বছরের একটি চূড়ান্ত চুক্তি হোক।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে 'ডব্লিউজিএ' বলছে, " আমরা এখনও ধর্মঘটে আছি, কিন্তু এখন থেকে পিকেটিং স্থগিত করা হয়েছে। ধর্মঘট চূড়ান্তভাবে শেষ করার পথ প্রশস্ত হয়েছে।"
'এএমপিটিপি'র সঙ্গে 'ডব্লিউজিএ' অস্থায়ী চুক্তির বিষয়ে লেখকদের সংগঠনটি বলছে, "আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি চুক্তিটি ব্যতিক্রমী। এই চুক্তির ফলে লেখকরা লাভবান হবেন এবং সুরক্ষাও পাবেন।"
তবে চুক্তির শর্ত 'ডব্লিউজিএ' সংবাদমাধ্যমদের কাছে প্রকাশ করেনি।
সংকট সুরাহার চেষ্টায় গত কয়েকদিনে দফায় দফায় 'এএমপিটিপি'র সঙ্গে বৈঠকে বসে 'ডব্লিউজিএ'। অবশেষে রোববার ধর্মঘট শেষ করতে চলার খবর আসে 'ডব্লিউজিএ'র পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার 'অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসারস'র (এএমপিটিপি) সঙ্গে লেখকদের সংগঠনের 'ডব্লিউজিএ' চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেতে পারে। ফলে লেখকরা কয়েক দিনের মধ্যে কাজে ফিরে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেখকদের সঙ্গে চুক্তির ধারাবাহিকতায় অভিনয় শিল্পীদের সংগঠন স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যান্ড দ্য আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টের সঙ্গেও (এসএজি-এএফটিআরএ) স্টুডিওগুলো একটি চুক্তিতে পৌঁছুতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
গত ২ মে থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে ৫ বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন জগতের।
লেখকদের শুরু করা এই ধর্মঘটে মূলত তিন পক্ষ দেখা গেছে। ধর্মঘট শুরু করা সংগঠন হল- চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইনের লেখকদের প্রতিনিধিত্বকারী 'রাইটারস গিল্ড অব আমেরিকা' (ডব্লিউজিএ); এ সংগঠনের সংদস্য সংখ্যা ১১ হাজার।
তাদের সঙ্গে যোগ দেয় 'স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যান্ড দ্য আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্ট' (এসএজি-এএফটিআরএ)। এই ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা, স্টান্ট-কোঅর্ডিনেটর,ভয়েসওভার শিল্পী এবং ব্যাকগ্রাউন্ড অভিনেতারা।
আর তৃতীয় পক্ষ হল, 'অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসারস' (এএমপিটিপি)।
এই 'এএমপিটিপি' ডিজনি ও প্যারামাউন্টের মতো প্রধান ফিল্ম স্টুডিও, ফক্স ও এনবিসির মতো আমেরিকান টিভি নেটওয়ার্কগুলো এবং নেটফ্লিক্স ও আমাজনের মতো স্ট্রিমিং জায়ান্টদের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় 'ডব্লিউজিএ' এর ধর্মঘট এ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
অভিযোগ কী কী?
মূলত ভালো বেতন ও কাজের নিরাপত্তার দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছিলেন লেখকরা। ডিজনি, প্যারামাউন্টের মত যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় স্টুডিওগুলোর সঙ্গে বেশি পারিশ্রমিকের জন্য একটি চুক্তি করতে চেয়েছিল 'ডব্লিউজিএ'। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ গত এপ্রিল মাসে। এরপর তারা ধর্মঘটে নামে।
'ডব্লিউজিএ'র অভিযোগ হল, টেলিভিশনের সিরিয়াল লেখকরা কোভিড মহামারীর আগে থেকেই ন্যূনতম বেতনে কাজ করেন। স্টুডিও কোম্পানিগুলো লেখকদের পেছনে ব্যয় কমাতে স্ট্রিমিং সার্ভিসের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে লেখকদের কাজের ক্ষেত্র নাজুক হচ্ছে।
নাটক রচয়িতা ও চলচ্চিত্রকারদের অভিযোগ হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআইয়ের উত্থান তাদের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। অনেক কোম্পানি এআই দিয়ে চিত্রনাট্য লেখানোর কাজ শুরু করেছে। এতে করে নাটক রচয়িতা-চলচ্চিত্রকারদের প্রয়োজনীয়তা কমছে এবং কাজেও সৃজশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
ধর্মঘটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত লেখকদের এই সংগঠন নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন স্টুডিওর বাইরে পিকেটিং করেছে। অনেক জায়গায় জড়ো হয়ে অধিকার আদায়ে স্লোগান দিয়েছেন তারা।
'ডব্লিউজিএ' ধর্মঘট শুরুর পর ন্যায্য পারিশ্রমিকের দাবি, এআইএর ব্যবহার বন্ধসহ, বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে ধর্মঘটে যোগ দেয় অভিনয় শিল্পীদের সংগঠন 'এসএজি-এএফটিআরএ'। গত ৬৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত যৌথ এই ধর্মঘটে টেলিভিশনের বহু সিরিয়াল ও ধারাবাহিত প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। মুক্তি ও শুটিং পিছিয়ে যায় অনেক সিনেমার। এক কথায় স্থবির হয়ে পড়ে হলিউড।
'এসএজি-এএফটিআরএ' ও 'ডব্লিউজিএ'র ধর্মঘটের পর স্টুডিওর প্রতিনিধিত্বকারী ' দ্য অ্যালিয়েন্স অব মোশন পিকচার ও টেলিভিশন প্রডিউসারস' লেখক ও শিল্পীদের ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত 'হতাশাজনক' বলে একাধিক বিবৃতি দেয়। গত মে মাসে ধর্মঘটে থাকা দুই পক্ষের সঙ্গে 'এএমপিটিপি' একাধিকবার আলোচনার টেবিলে বসলেও কোনো ধরনের সমাধান আসেনি। সংবাদসূত্র: বিবিসি, সিএনএনএন
(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)