বিচ্ছেদের পর আগের চেয়ে ভালো আছি: রিকি মার্টিন
গত জুলাইয়ে ছয় বছরের দাম্পত্যের ইতি টানেন রিকি মার্টিন ও জোয়ান ইয়োসেফ।
সুইডিশ চিত্রকর জোয়ান ইয়োসেফের সঙ্গে ছয় বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন পপ শিল্পী রিকি মার্টিন।
সেই ঘোষণায় সাবেক দাম্পত্য জীবন ও সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিকি মার্টিন বলেছেন, বিচ্ছেদের পর তারা দুজনই ভালো আছেন।
সঙ্গে এও বলেছেন, আগামীতে এক ছাদের নিচে আর থাকা না হলেও পরিবার হিসেবেই থাকবেন তারা। সন্তানদের যাবতীয় দায়-দায়িত্বও সামলাবেন দুজন মিলে।
পিপল ম্যাগাজিন বলছে, ২০১৭ সালে সিরিয়ান বংশোদ্ভুত সুইডিশ চিত্রকর জোয়ান ইয়োসেফকে বিয়ে করেন পুয়ের্তোরিকোর সংগীতশিল্পী রিকি মার্টিন।
মার্টিনের নাম প্রথম শোনা যায় ১৯৯৮ সালে ফুটবল বিশ্বকাপে। সেবারে খেলার থিম সং ‘গোল গোল গোল...আলে আলে আলে’ গেয়ে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান তিনি। বলা হয় মার্টিনের ‘কোপা দে লা ভিদা’ শিরোনামের গানটি দিয়েও অফিসিয়াল থিম সং নিয়ে আলোড়ন শুরু হয় বিশ্বে।
সমকামী মার্টিন ও ইয়োসেফের আলাপ শুরু ২০১৫ সালে। এরপর মাস ছয়েকের মধ্যে সম্পর্কে জড়ালেও সে খবর গোপন রেখেছিলেন দুজনেই। ২০১৬ সালে মার্টিন-ইয়োসেফের সম্পর্ক জানাজানি হয়। তারা বিয়ে ও বাগদান সারেন ২০১৮ সালে।
পাঁচ বছর বিবাহিত জীবন কাটিয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে বিচ্ছেদে যান মার্টিন ও ইয়োসেফ। আর এক যৌথ বিবৃতিতে সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এরপর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিকি মার্টিন বলেন, “আমরা জানতাম, এমনটাই ঘটবে!”
৫১ বছর বয়সী এই গায়ক বলেন, “ইয়োসেফ এবং আমি সবসময় পরিবার হয়ে থাকব। আমাদের দুই সন্তানকে একসাথে বড় করব।”
যৌথ বিবৃতিতে মার্টিন ও ইয়োসেফ জানিয়েছেন, হুট করেই এমনটা ঘটেনি। কোভিড মহামারীর আগে থেকেই তারা ভাবছিলেন। অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। তারা একসাথে কেঁদেছেন, হেসেছেন।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, “দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছি আমরা। আমরা ভালো করেই জানতাম, নিজেদের ভালোর জন্য, সন্তানদের মঙ্গলের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিঙ্গেল হওয়ার পর আগের চেয়ে ভালো আছি আমরা।”
সন্তানদের নিয়েও ঘোষণা এসেছে বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য ভালবাসা, সম্মান ও মর্যাদা রেখে দম্পতি হিসেবে বিবাহ-বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করছি। বিগত বছরগুলোতে আমাদের যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে সম্মান রেখে এই পথ চলা এখানেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
মার্টিন ও ইয়োসেফ জানিয়েছেন, সংসার ভাঙলেও তারা বন্ধুত্ব বজায় রাখবেন, থাকবেন পরিবার হিসেবেই এবং যৌথভাবেই সন্তানদের দায়-দায়িত্ব পালন করবেন।
সাবেক এই দম্পতির দুই ছেলে মেয়ে লুসিয়া ও রেন। ২০১৮ ও ১৯ সালে সারোগেসির মাধ্যমে দুই সন্তানকে ঘরে এনেছিলেন তারা।
এছাড়া দুই যমজ পুত্র ম্যাটিও এবং ভ্যালেন্টিনোর বাবা মার্টিন। ২০০৮ সালে তাদের জন্ম।
