Published : 08 Feb 2025, 05:38 PM
প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও সংস্কৃতি খাত ‘উপেক্ষিত থেকে গেছে’ মন্তব্য করে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রান্তিক মানুষের সংস্কৃতির বিকাশে এই খাতে ন্যূনতম এক শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকার জাতীয় নাট্যশালায় শুক্রবার এক সেমিনারে উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। সেই বাজেটেও সংস্কৃতি খাত গুরুত্ব পেয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও সংস্কৃতি খাতকে অবহেলা হতাশাজনক।”
তিনি বলেন, “২০১০-১১ অর্থবছরে সংস্কৃতিখাতের বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ ০.১৬ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ বছরে এই হার ছিল ০.৯ শতাংশ। দিনে দিনে সংস্কৃতি খাতের বাজেট উপেক্ষিতই থেকে গেছে। সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যতই হোক না কেন, তা একসময় বালির বাঁধের মত ভেঙে পড়বে। সুতরাং সবার আগে এই খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে।
“বর্তমানে এই খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ আর শিল্পকলা একাডেমি কেন্দ্রিক শহুরে মানুষের চিত্ত বিনোদনের কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নে শেষ হয়ে যায়। গ্রামীণ জনপদের মানুষ বা শ্রমজীবী মানুষের সংস্কৃতি বিকাশে কণামাত্র অর্থও অবশিষ্ট থাকে না।”
'জাতীয় বাজেট: সংস্কৃতিখাতে এক শতাংশ বরাদ্দের প্রাসঙ্গিকতা' শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, “একসময় সংস্কৃতিকর্মীদের কাছে পরামর্শ নিতেন রাজনীতিবিদরা। এখন আর সেই অবস্থাটা নাই। প্রতি বছর আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠনকে ৫০/৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দেন। এটা এমনভাবে দেওয়া হয় যেন মনে হবে তারা দয়া করছেন। এটা অনুদান, দয়া নয়; এটা সংস্কৃতিকর্মীদের অধিকার।”
“যদি বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়, তা তো ওই একইভাবেই চলবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পুরোপুরি আমলানির্ভর, তারা সংস্কৃতির উন্নয়নের কোনো কাজই করে না। আমি তো মনে করি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেওয়া দরকার। এই মন্ত্রণালয় তো সংস্কৃতির কোনো কাজেই আসছে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, “মূল বাজেটের অন্তত এক শতাংশ বরাদ্দের দাবির পাশাপাশি তার যথাযথ ব্যয়ের পরিকল্পনাও থাকতে হবে। কেন আমরা বরাদ্দ চাইছি, সে বিষয়েও স্পষ্ট হতে হবে। এক শতাংশ বরাদ্দ দিলেই সেটা যথাযথ ব্যয় করার সক্ষমতা আছে কিনা, তাও দেখতে হবে।”
শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির একটা সম্পর্ক আছে জানিয়ে স্কুল-কলেজে সংস্কৃতির জন্য আলাদা বাজেট দেওয়ার দাবি জানান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম হামিদ।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম, ফওজিয়া মোসলেম, মানজারে হাসিন মুরাদ, আজাদ আবুল কালাম, আহকামউল্লাহ, লেলিন চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুস সেলিম সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।