১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মামলা নিয়ে যা যা বললেন মেহজাবীন

“ব্যাংক লেনদেন, কোনো চেক, বিকাশ লেনদেন, কোনো লিখিত চুক্তি, কোনো রসিদ, কোনো সাক্ষী, কিছুই না। একটি কাগজপত্রও নেই।”

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2025, 09:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:08 PM

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী আগের দিনই বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে টাকা ‘আত্মসাৎ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে যে মামলা হয়েছে সেটি ‘ভিত্তিহীন’। ওই কথার পুনরাবৃত্তি করে এবার অভিনেত্রী বলেছেন, মামলার বাদীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই।

এছাড়া অভিযোগকারী ও তার আইনজীবীর ফোন বন্ধ বলেও জানিয়েছেন মেহজাবীন।

ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগের মেহজাবীনের বিরুদ্ধে মামলার খবর আসে রোববার দুপুরে। মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম গত ১০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করার তথ্য দেন।

তিনি বলেন, সেদিন এ মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা হাজির হননি। এজন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আমিরুল ইসলাম গত ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেছিলেন।

এরপর রোববার বিকালে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন মেহজাবীন। 

সোমবার মামলার বিষয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন মেহজাবীন। 

যে লেখার শিরোনাম দিয়েছেন ‘আমার অফিসিয়াল বিবৃতি’।

মেহজাবীন লিখেছেন, “একজন অজানা ব্যক্তি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আমার ও আমার ১৯ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত ৯ মাসে আমি এই মামলার কোনো তথ্য পাইনি। কারণ, অভিযোগকারী ব্যক্তি পুলিশকে আমার সঠিক ফোন নম্বর, সঠিক ঠিকানা বা কোনো যাচাইকৃত তথ্য দিতে পারেননি।

“তিনি দাবি করেন যে ২০১৬ সাল থেকে তিনি আমার সাথে ‘ব্যবসা’ করছিলেন। কিন্তু—।”

মেহজাবীনের ভাষ্য, “‘কোনো যোগাযোগের প্রমাণ নেই। অভিযোগকারী দাবি, ২০১৬ সাল থেকে আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিতেন। সেটাও কিন্তু তিনি দেখাতে পারেননি। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা আমার নম্বরেও কোনো কিছু আসেনি। একটি স্ক্রিনশটও তিনি দেখাতে পারেননি।”

মামলার বাদীর ‘পরিচয় অসম্পূর্ণ’ জানিয়ে মেহজাবীন বলেন, “তার সম্পূর্ণ পরিচয়পত্র এখনো জমা দেয়া হয়নি। তার এনআইডি পর্যন্ত অনুপস্থিত। অভিযোগকারী তার ফোন বন্ধ করে রেখেছেন, এমনকি তার আইনজীবীর নম্বরও বন্ধ।”

অভিযোগকারীর দাবি হল তিনি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মেহজাবীনকে ২৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। 

এই নিয়ে মেহজাবীন বিবৃতিতে বলেন, “আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই। তিনি দাবি করেন যে তিনি আমাকে ২৭ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি দেখাতে পারেননি। ব্যাংক লেনদেন, কোনো চেক, বিকাশ লেনদেন, কোনো লিখিত চুক্তি, কোনো রসিদ, কোনো সাক্ষী, কিছুই না। একটি কাগজপত্রও নেই।”

ফেব্রুয়ারির ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ প্রমাণহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন মেহজাবীন।

‘অর্থ আত্মসাৎ এবং হত্যার হুমকি’: অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অভিনেত্রী লিখেছেন, “তিনি (অভিযোগকারী) দাবি করেন যে ১১ ফেব্রুয়ারি আমি তাকে চোখ বেঁধে হাতিরঝিলে একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিলাম, আমার ছোট ভাইসহ আরও ৪–৫ জনকে নিয়ে। গত তিনি রেস্টুরেন্ট বা আশেপাশের রাস্তার এক সেকেন্ডেরও সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারেননি। কোনো সাক্ষী, কোনো প্রমাণ কিছুই না।

“হাতিরঝিল ঢাকার সবচেয়ে বেশি সিসিটিভি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা, তবুও তিনি একটি ছবি বা ভিডিও ফুটেজ দেখাতে পারেননি।”

মেহজাবীন বিবৃতিতে বলেছেন তিনি গত নয় মাসে কোনো নোটিস পাননি।

মেহজাবীনের কথায়, “এই নয় মাসে কোনো পুলিশ স্টেশনের ফোন কল, কোনো কোর্টের নোটিশ বা ডকুমেন্ট আমি পাইনি।”

একটি নোটিশ হাতে পেলেও অনেক আগে থেকে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন বলে জানিয়েছেন জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। 

নিজেকে আইনের প্রতি ‘শ্রদ্ধাশীল’ বর্ণনা করে মেহজাবীন বলেন, “এই মামলার কোনো ভিত্তি না থাকলেও, যখন জানতে পারলাম যে একটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে, তখন আমি আইনি প্রক্রিয়া মেনে জামিন নিয়েছি — কারণ আমি আমাদের আইন ও নিয়ম মানি। প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলা কখনো সত্য হয়ে যায় না।

“সত্য খুব দ্রুতই আদালতে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখনকার দিনে কাউকে অপমান করা, মানহানি করা বা ভাইরাল হওয়ার জন্য অন্যকে ব্যবহার করা খুবই সহজ হয়ে গেছে। এই ব্যক্তির যেই উদ্দেশ্যই থাকুক, আমার বা আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে সে যা-ই করতে চায় —আমি বিশ্বাস করি সবকিছু খুব দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

সবার প্রতি অনুরোধ রেখে মেহজাবীন লিখেছেন, “দয়া করে সহানুভূতিশীল হোন, দয়া করে মানবিক হোন, এবং কাউকে না জেনে কোনো মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করবেন না। গত ১৫ বছর ধরে আমি আমার কাজ, আমার পেশা এবং আমার দর্শকদের জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা দিয়ে এসেছি, সেই পরিশ্রমের পরেও আজ আমাকে এসব ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে—এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।”এই মামলায় আগামী ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের জবাব দাখিলের দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

মামলা 'ভিত্তিহীন' বললেন মেহজাবীন

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিব, কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে।

“পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব’।”

এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়।