চঞ্চলের মৃণাল সেন হয়ে ওঠার গল্প এবার ওটিটিতে
‘পদাতিক’ সিনেমায় মৃণাল সেনের জীবন, কর্ম ও তার সময়ের গল্প এঁকেছেন পরিচালক সৃজিত।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে দুবছর আগে মুক্তি পেয়েছিল সৃজিত মুখার্জির ‘পদাতিক’। যে সিনেমায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন হয়ে পর্দায় আসেন চঞ্চল চৌধুরী।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে মুক্তি পেয়েছে সেই সিনেমাটি।
ফেইসবুক পোস্টে এই খবর জানিয়েছেন চঞ্চল।
তিনি লিখেছেন, “যে চোখে সিনেমা ছিল শুধু গল্প নয়, ছিল সময়কে দেখার এক নতুন দৃষ্টি। সেই দৃষ্টির গল্পই এবার আপনারা দেখতে চলেছেন!”
এতে মৃণাল সেনের যুবক ও বয়স্ক—দুই বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল। মৃণালের জীবনে স্ত্রী গীতার অবদানও তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়।
গীতা সেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার মনামী ঘোষ। তার ছেলে কুণাল সেনের চরিত্রে আছেন সম্রাট চক্রবর্তী।
সিনেমায় প্রয়াত পরিচালকের জীবন, কর্ম ও তার সময়ের গল্প এঁকেছেন সৃজিত।
২০২৪ সালে ১৫ অগাস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘পদাতিক’। একই দিনে বাংলাদেশে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও, সেসময় সরকার পতন ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাতে চঞ্চলের এই সিনেমাটি দেশে আর আলোর মুখ দেখেনি।
প্রেক্ষাগৃহে আসার আগে ‘পদাতিক’র প্রিমিয়ার শো হয়েছে ‘লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে’।
২০২৩ সালের শেষের দিকে মৃণাল সেনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সিনেমাটি নির্মাণের ঘোষণা আসে। যেখানে নির্মাতা সৃজিত মৃণাল চরিত্রে বেছে নেন চঞ্চলকে, কারণ সৃজিত মনে করেছিলেন, দুজনের মুখের দারুণ ‘মিল’ আছে।
কীভাবে মৃণাল সেন হয়ে উঠলেন চঞ্চল? এমন প্রশ্নে ভারতীয় পত্রিকা সংবাদ প্রতিদিনে চঞ্চল বলেছিলেন, “আমাকে কিছু বইপত্র দেওয়া হয়েছে, কিছু ভিডিও দেওয়া হয়েছে। সেটা তো একটা ব্যাপার। কিন্তু মানুষটার ভেতরটা, মানুষটার দৃঢ়তা, অন্তরটা তো দেখা যায় না।
"এ বিষয়গুলো আসলে অনুভব করতে হয়। তার সিনেমার বক্তব্য, সিনেমা তৈরির উদ্দেশ্য সবগুলো বুঝে নেওয়ার প্রস্তুতি চলেছে। কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। আমার এখানেই একটু অতৃপ্তি রয়েছে, আরো বেশি সময় ধরে তাকে বুঝতে হত। আরো বেশি সময় দরকার ছিল।”
বয়োপিকের চিত্রনাট্যও লিখেছেন সৃজিত, এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন মৃণাল সেনের ছেলে কুণাল। সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন ফিরদৌসুল হাসান।
