Published : 31 Jul 2026, 11:05 AM
দেশ, পরিবার, পরিচয়, আর নিজের জায়গায় ফেরার টানের গল্পের সিনেমা ‘শেকড়’; এবার দেখা যাচ্ছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে।
নির্মাতা প্রসূন রহমান গ্লিটজকে জানিয়েছেন, সিনেমাটি চলছে ১১টি প্রেক্ষাগৃহে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা শাখা, মিরপুর সনি স্কয়ার, নারায়াণগঞ্জ শাখায়সহ, ঢাকার শ্যামলী সিনেমা, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ, বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স ও মম ইন সিনেপ্লেক্স, কুমিল্লা সেনানিবাসের কে স্ক্রিন, সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট এবং চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছে শেকড়।
এই সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছিল গেল বছর টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে। এর আগে প্রসূন রহমান জানিয়েছিলেন, দেশে মুক্তির পর সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ বড় পরিসরে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।
আগামী ২ অগাস্ট কানাডার তিনটি শহরে মুক্তি পাবে ‘শেকড়’। এরপর সেপ্টেম্বরে সিনেমাটি পরিবেশিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে।
আন্তর্জাতিকভাবে ‘শেকড়’ পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ‘ডিমান্ড ফিল্ম’।
দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশে স্প্যানিশ ভাষায় চলচ্চিত্রটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে স্প্যানিশ ডাবিং সম্পন্ন হয়েছে, যা মেক্সিকোভিত্তিক একটি পরিবেশনা সংস্থার মাধ্যমে মুক্তি পাবে।
সিনেমাটি নিয়ে প্রসূন বলেন, "চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন আমার কাছে একটা সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা। এটি এমন এক সৃজনশীল চর্চা, যা মানুষ, সমাজ এবং সময়ের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করে। 'শেকড়' একজন অভিবাসীর চোখে ফিরে দেখার গল্প বললেও, মূলত এটি পরিবার, সম্পর্ক, স্মৃতি ও পরিচয়ের টান নিয়ে তৈরি। চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় সাফল্য সেখানেই, যখন তা মানুষের মনে জায়গা করে নেয়।"
প্রচারণা কিংবা বিপণন কৌশলে নিজের দক্ষতার ঘাটতির কথা স্বীকার করে নির্মাতা জানিয়েছেন, তিনি মূলত গল্প ও মানুষের ভালোবাসার ওপর ভরসা রাখছেন।
তিনি বলেন, "‘শেকড়’ একজন অভিবাসীর চোখে ফিরে দেখার গল্প বললেও, মূলত এটি পরিবার, সম্পর্ক, স্মৃতি, পরিচয় এবং নিজের শেকড়ের প্রতি অনিবার্য টান নিয়ে নির্মিত একটি সিনেমা। পারিবারিক আবহে এটি আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ দেশটাকে দেখার ও বোঝার একটি চেষ্টা।"
'শেকড়' সিনেমার চিত্রনাট্যে উঠে এসেছে মানুষ ও মাটির চিরন্তন সম্পর্কের গল্প। অভিবাসন এবং অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকটসহ শেকড়ের টানে ফিরে দেখার চেষ্টা শুধু বাংলা ভাষাভাষী মানুষেরই নয়, বিশ্বজুড়ে সবারই রয়েছে কাছাকাছি অনুভব।
জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও আবার সেই শেকড়ের সন্ধান খুঁজে ফেরার গল্প, পেছনে ফেলে আসা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের প্রাণান্তকর চেষ্টার গল্প থাকছে এই সিনেমায়।
সানাউল মোস্তফার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন প্রসূন নিজেই।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম ও আইশা খান, দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা, শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়াসহ অনেকে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমেশন ক্রিয়েটর। শুটিং হয়েছে গাজীপুর, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ায়।
সংগীত পরিচালনা করেছেন রোকন ইমন।