'মৃত্যু উপত্যকা’য় নবারুণ ভট্টাচার্য

কণ্ঠহীনেরা কণ্ঠ পায় তাঁর লেখায়। পাগল, বেকার, ছিন্নমূল, বিত্তহীন, ভ্যাগাবন্ড - সমাজকাঠামোর এই প্রান্তিকজনদের নিয়েই তাঁর কারবার। ক্ষমতাযন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর কলম বরাবরই সরব। ক্যান্সার থামিয়ে দিল সেই নবারুণ ভট্টাচার্যকে।

চিন্তামন তুষারআইএএনএস/বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2014, 05:14 PM
Updated : 1 August 2014, 09:28 AM

বিধ্বংসী কোনো বিপ্লবের ডাক নিয়ে আর হাজির হবে না ফ্যাতাড়ুরা, আর উচ্চারিত হবে না তাদের ‘ফ্যাৎ ফ্যাৎ সাই সাই’ মন্ত্র।

৬৬ বছর বয়সে কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে মারা গেছেন নবারুণ ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন অন্ত্রের ক্যান্সারে।

প্রথাবদ্ধ চিন্তার দেয়াল ভাঙতে চাওয়া এই লেখক নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য এবং সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান।

পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরে ১৯৪৮ সালের ২৩শে জুন তাঁর জন্ম।

নবারুণ ভট্টাচার্যের ‘হারবার্ট’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। উপন্যাসটির জন্য পান সাহিত্য আকাদেমি সম্মাননা৤ উপন্যাস অবলম্বনে সুমন মুখোপাধ্যায় সিনেমা নির্মাণ করেন ২০০৫ সালে।  সিনেমাটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পায়। 

তাঁর তিনটি গল্প ‘এক টুকরো নায়নলের দড়ি’, ‘আমার কোনো ভয় নেই তো’, ‘আংশিক চন্দ্রগ্রহণ’ অবলম্বনে নির্মিত হয় ‘মহানগর অ্যাট দ্য রেইট অফ কলকাতা’ নামের সিনেমা। এ সিনেমাটিও নির্মাণ করেন সুমন মুখোপাধ্যায়। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করেন অঞ্জন দত্ত, ঋতুপর্ণ সেনগুপ্ত ও  শ্রীলেখা মিত্র।

‘কাঙাল মালসাট’ নিয়েও সিনেমা নির্মাণ করেন সুমন। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালে৤ কবীর সুমন, কমলিকা চট্টোপাধ্যায়, দিবেন্দ্যু ভটাচার্য, জয়রাজ ভট্টাচার্য, কৌশীকী গাঙ্গুলী, দীলিপ সরকার অভিনীত সিনেমাটি মুক্তির আগেই ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়৤ ইতিহাস বিকৃতি, আগ্রাসী ভাষা ও যৌনতার ব্যবহার এবং সামাজিক বিপ্লবের ভুল উপস্থাপনকে কারণ দেখিয়ে সিনেমাটি আটকে দিয়েছিল সেন্সর বোর্ড৤ অবশেষে ছাড়পত্র পায় সিনেমাটি।

তাঁর লেখা একটি কবিতা-- ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক