সেন্সর বোর্ডের নাম, চলচ্চিত্র নীতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ
নির্মাতা ও প্রযোজকদের দাবির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের নাম বদলের পাশাপাশি নীতিমালায়ও বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরইমধ্যে এর খসড়া তৈরি হয়েছে বলে সেন্সর বোর্ডের সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের দাবির মুখে নাম বোর্ডের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালাতেও বেশকিছু পরিবর্তন আসছে।”
এছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রদর্শনের পাশাপাশি সেন্সর সনদপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নীতিমালায় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের নাম বদলের জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই চলচ্চিত্র আঙ্গিনায় আলোচনা ছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারতের আদলে ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজকরা।
সেই অনুযায়ী বোর্ডের নাম ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড রাখার বিষয়ে তাদের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে বলে মুন্সী জালাল উদ্দিন জানান।
এর আগে বিভিন্ন সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেন্সর নীতিমালাকে চলচ্চিত্র নির্মাণের ‘অন্তরায়’ আখ্যায়িত করে পরিবর্তনের দাবি জানান চলচ্চিত্র নির্মাতারা।
মুন্সী জালাল বলেন, “তারা চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে বেশ কয়েকটি দাবি দাওয়া বোর্ডে উপস্থাপন করেছেন। বোর্ড সদস্যরা সেগুলো টুকে নিয়েছেন। নতুন নীতিমালা পরিচালক বান্ধব হবে।”
তবে তাদের অনেক দাবি মানা হলেও কিছু বিষয়ে কোনো ছাড়া হবে না বলে জানান বোর্ড সচিব।
এর মধ্যে সেন্সর অনুমোদন ছাড়া চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রদর্শন, প্রচার-প্রচারণার মতো বিষয়গুলো রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে নীতিমালা আগের মতোই থাকবে। আগে পোস্টারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল। এখন সিনেমার ট্রেইলারেও অনুমোদনের দরকার হবে। অনুমোদন ছাড়া কেউ ইউটিউবে ট্রেইলার প্রদর্শন করতে পারবেন না।”
বর্তমান নীতিমালায় সিনেমার পোস্টার, ডায়াগ্রাম, স্কেচ, হ্যান্ডবিল প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের জন্য বোর্ডের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা দশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, “কোন গ্রেডের চলচ্চিত্রটি কোন বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী, তা নির্ধারণ করবে গ্রেডিং সিস্টেম। ভয়াবহ দৃশ্য রয়েছে, এমন সিনেমাকে আমরা কোনোভাবেই শিশু উপযোগী সিনেমা বলব না। তাছাড়া একটি সিনেমা আদৌ সিনেমা কি না, সে বিষয়টিও ঠিক করা হবে। একটি বড় নাটককে সিনেমা বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে না।”
সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, চলচ্চিত্রের উপাদান, ভাষা, নির্মাণ, প্রচার-প্রচারণা-প্রদর্শন বিষয়গুলোতে তারা বেশ কয়েকটি দাবি তুলেছেন।
“নীতিমালা নিয়ে আমাদের আপত্তি অনেক দিনের। আমরা চলচ্চিত্রে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো কথাই বলতে পারি না। অথচ পত্রপত্রিকা, চ্যানেলে কিন্তু অহরহ তা বলা হচ্ছে। আমরা অন্যায়ের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান ঘোষণা করতে চাই। কিন্তু আমাদের সে পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে,” বলে তিনি।
বর্তমান নীতিমালায় প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো বাহিনী বা দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে হাস্প্যস্পদ কিংবা অবমাননা হয় এমনভাবে উপস্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এছাড়া সিনেমাতে নায়িকাদের পোশাকের বিষয়ে ‘অযৌক্তিক’ বিধি-নিষেধ নিয়েও তারা সেন্সর বোর্ডে আবেদন করেছেন বলে জানান গুলজার।
মুন্সী জালাল উদ্দিন ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আভাস দিলেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তথ্য মন্ত্রণালয়ে চলচ্চিত্র শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব গৌতম কুমার ঘোষ।
খসড়া পর্যায়ে থাকা চলচ্চিত্র নীতিমালা কিছুদিনের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে বোর্ড সচিব জানান।
