Published : 25 Jul 2025, 12:17 PM
‘জীবন থেকে নেওয়া’ সিনেমার পর দেশের আরেকটি কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ দেখানো হবে অস্ট্রেলিয়ায়।
জীবনযুদ্ধে লড়াকু নারী জয়গুনের সংগ্রামের গল্প বলা এই সিনেমাটি আগামী ৩ অগাস্ট অস্ট্রেলিয়ার ‘জমিদার বাড়ি’ নামের এক বিশেষ ভেন্যুতে প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।
ভিনদেশের মাটিতে এই সিনেমাটি দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশনা সংস্থা বঙ্গজ ফিল্মস।
প্রথাগত কোনো প্রেক্ষাগৃহে নয়, বরং একটি মুক্ত প্রাঙ্গণে পর্দা টানিয়ে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ দর্শকদের দেখথানো হবে বলে গ্লিটজকে জানিয়েছে ‘বঙ্গজ ফিল্মস’। সেখানে ২০০ দর্শক একসঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখতে পারবেন।
বঙ্গজ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা তানিম মান্নান গ্লিটজকে বলেন, “আমরা এর আগে ‘জীবন থেকে নেওয়া’ প্রদর্শন করেছি। এবার দেখাচ্ছি ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’। সৌভাগ্যজনকভাবে এই সিনেমার একজন পরিচালক নমসিহউদ্দিন শাকের এখন অস্ট্রেলিয়াতেই আছেন। তার উপস্থিতিতেই সিনেমাটি দেখানোর ইচ্ছে আমাদের।”
সিনেমার প্রিন্টের সীমাবদ্ধতা থাকায় সাধারণ সিনেমা হলে প্রদর্শনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
“এখানে সিনেমা হলে তো ফোর-কে প্রজেকশন চলে। কিন্তু এই সিনেমার যেটুকু প্রিন্ট আছে তা হলের জন্য মানানসই নয়। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জমিদার বাড়িতে প্রদর্শন করছি”।
মান্নান জানিয়েছেন, সিনেমাটি দেখতে কোনো প্রবেশ ফি লাগবে না। তবে এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের অনুদান যাবে ক্যান্সার কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার ক্যান্সার গবেষণা, প্রতিরোধ ও সহায়তা সেবার তহবিলে।
১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ নির্মিত হয় কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের উপন্যাস অবলম্বনে। যৌথভাবে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেজার ভিশন লিমিটেডের ফেইসবুক পেইজে সিনেমার খণ্ড খণ্ড ভিডিও ক্লিপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক দর্শক সেই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে সিনেমার নির্মাণশৈলী ও গ্রামবাংলার চিত্রায়নের প্রশংসা করছেন।
‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ মূলত গ্রামীণ সমাজে বসবাসরত এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর টিকে থাকার সংগ্রামের গল্প।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জয়গুন এক প্রান্তিক শ্রমজীবী নারী। প্রথম পক্ষের ছেলে হাসু আর দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে মায়মুনকে নিয়ে তার সংসার।
প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্বামী করিম বকশের ঘরেও তার শান্তি আসে না। দুর্ভিক্ষের সময় সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় করিম। শহরের দিকে যাত্রা করলেও সেখানে জোটে না আশ্রয়, কাজ বা সম্মান।
শেষে গ্রামে ফিরে জয়গুন ঠাঁই নেয় ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ নামের এক পরিত্যক্ত ভিটায়, যা স্থানীয়দের চোখে ‘অপয়া’। কিন্তু ভূতের ভয় আর কুসংস্কারে পেট চলে না। জয়গুন শুরু করে চাল ব্যবসা, ধান ভানা, শাক বিক্রিসহ নানা কাজ। তার ছোট সন্তানরাও নেমে পড়ে জীবিকা অর্জনের যুদ্ধে।
তবে সমাজপতির লালসা, অসহযোগিতা এবং পুরুষতান্ত্রিক প্রতিহিংসা আবারও তাদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। সিনেমার শেষদিকে জয়গুনের সেই অন্ধকার বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার যন্ত্রণাময় গল্প তুলে ধরা হয়।
সিনেমায় জয়গুন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডলি আনোয়ার। আরও অভিনয় করেছেন কেরামত মাওলা, জহিরুল হক, রওশন জামিল, এটিএম শামসুজ্জামান, ইলোরা গহর, হাসান ইমাম, আরিফুল হক, নাজমুল হুদা বাচ্চু, লেনিনসহ অনেকে।
সিনেমার সংলাপ লিখেছেন ও প্রযোজনা করেছেন মসিহউদ্দিন শাকের নিজেই। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আলাউদ্দিন আলী।