১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ধীরে ধীরে তাকে শেষ করে দেওয়ার কঠিন চেষ্টা হয়েছে: কনকচাঁপা

“তাঁর জীবনে তিনি অন্যায়, মিথ্যাচার, স্বৈরাচার কারও সাথে নিজ স্বার্থ, স্বাচ্ছন্দ্য, সম্ভোগের জন্য আপস করেন নাই।”

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Dec 2025, 11:15 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:27 PM

‘এই জীবন বয়ে বেড়ানো অসম্ভব রকম কঠিন, যা আমরা ভাবতেই পারি না’-এই কথাগুলো সংগীতশিল্পী কনকচাঁপার। তার এই উপলব্ধি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে।

ফেইসবুকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তিনি বলেন, “বারবার, বারবার তাঁর নামের সাথে উচ্চারিত হয় “আপসহীন”, নিশ্চয়ই আমরা তার মানে জানি, কিন্তু অনুধাবন করি কজন! তাঁর জীবনে তিনি অন্যায়, মিথ্যাচার, স্বৈরাচার কারও সাথে নিজ স্বার্থ, স্বাচ্ছন্দ্য, সম্ভোগের জন্য আপস করেন নাই। দেশের মানুষের মায়ায় তিনি সংসার, সন্তান, আরাম-আয়েশি বিলাসী জীবন কিছুর তোয়াক্কা করেন নাই। 

“এই কথা লেখা যেমন সহজ পড়াও সহজ; কিন্তু এই জীবন বয়ে বেড়ানো অসম্ভব রকম কঠিন, যা আমরা ভাবতেই পারি না।’

খালেদা জিয়ার মামলায় জর্জরিত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে কনকচাঁপার পোস্টে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণও তুলে ধরেন তিনি। 

কনকচাঁপা বলেন, “বড়ই আফসোস হয় একটা ডাহা মিথ্যা মামলায় তিনি তাঁর জীবন সুন্দরভাবে শেষ করতে পারলেন না। সত্যিকার অর্থে সেখান থেকেই তাঁর অসুস্থতা শুরু হয়েছে। বলা যায় ধীরে ধীরে তাঁকে শেষ করে দেয়ার কঠিন চেষ্টা চালানো হয়েছে আর আমরা অসহায় হয়ে চেয়ে থেকেছি।

“সেই পুরাতন, প্রাক্তন ভাঙা জেলখানায় তাঁর দিন কেটেছে তা ভেবে কত রাত আমার নির্ঘুম হয়ে যেত! কত রকম ভয় ছিলো সেই একাকী জেলজীবনে সেগুলো ভেবে হঠাৎ রাতে ঘুম ভেঙে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠত ,অথচ তিনি থাকতেন নির্ভার! এজন্যই তাঁকে বলতে চাই অকুতোভয় জীবন যোদ্ধা, মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব।”

খালেদা জিয়ার সংগ্রামময় জীবন নিয়ে কনকচাঁপা বলেন, “তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ ছিলো জীবনে যা কিছু হয়ে যাক এই দেশ এই দেশের মানুষ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। দেশপ্রেম এর উৎকৃষ্ট উদাহরন তিনি, তিনিই প্রকৃত রাজনীতিবিদ এবং খাঁটি একজন দেশনেতা। আমাদের দুঃখ রাখার জায়গা নেই যে আমরা তাঁকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারিনি।

“আমি কায়মনোবাক্যে দোয়া করি আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের স্থায়ী বাসিন্দা করে নেয়ার অনুগ্রহ করবেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এই শোক সইবার শক্তি অর্জন করুক।“

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ছয়টায় মারা যান খালেদা জিয়া। ওই হাসপাতালে তিনি চিৎসাধীন ছিলেন ৪০ দিন ধরে। 

তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রূপ নেয় শোকবইয়ে। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করছেন। শোক জানাচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের বহু শিল্পী।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।