১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রোমের হোটেল বিতর্ক: জেমস বললেন, 'এটা কোনো বড় ঘটনা নয়'

“বড় বড় রাজনীতিবিদদের নিয়েও তো কত কিছু লেখা হয়! কিন্তু তথ্য প্রমাণ ছাড়া এসব কথার কোনো ভিত্তি থাকে না।”

বিডিনিউজ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইতালি থেকে সাইফুল ইসলাম

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 07:28 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

ইতালির রোমের কনসার্টকে ঘিরে বেশ কয়েকটি অভিযোগের মধ্যে হোটেল কক্ষ নোংরার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস।

তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তি নেই। ভেনিসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ব্যান্ড সংগীতের 'নগরবাউল' খ্যাত গায়ক জেমস। 

তবে আয়োজকের তোলা অভিযোগের মধ্যে চুক্তি ভঙ্গ, টিকেট বিক্রির অর্থ নিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জেমস কোনো কথা বলেননি। ওই সংবাদ সম্মেলনে থাকা জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন কনসার্টের পারিশ্রমিক পরিশোধ নিয়ে আয়োজকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন রবিন। 

তার দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ৩০ হাজার ইউরো পারিশ্রমিক পরিশোধের পরই জেমসের মঞ্চে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু শো শুরুর আগে আয়োজকরা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেননি।

‘বিগ ডিল নয়’

সেখানে হোটেল কাণ্ড নিয়ে করা প্রশ্নে জেমস বলেন, “আমাদের সঙ্গে অতিথিশিল্পী হিসেবে একজন ইয়াং মিউজিশিয়ান গিটার ও কীবোর্ড বাজাতে আমেরিকা থেকে এসেছে। হোটেলগুলোর নিয়মই থাকে তাদের একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস দেওয়ার। আর ও বয়সে তরুণ, হয়ত রুম পুরোপুরি গুছিয়ে বা ক্লিন করে রাখেনি।”

বিষয়টি ‘বিগ ডিল নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জেমস। তার কথায়, হোটেলে প্রায়ই এমন ঘটে।

তিনি বলেন, “যেমন কেউ যদি প্রতিদিন রুম পরিষ্কার করতে না চায় কিংবা নোংরা হয়, ক্লিনিংয়ের তো একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থাকেই। আর ইয়াং ছেলেমানুষ, অনেক মিউজিশিয়ানই তো রুম এলোমেলো রাখে, এটা এত বড় বিষয় করার কিছু নেই।”

হোটেল কর্তৃপক্ষের জরিমানা কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “যদি ওরা ২০০ ইউরোর মত ফাইন (জরিমানা) করেও থাকে, তবে সেটাও নতুন কিছু না। অনেকেই রুমে সিগারেট খেলে বা নিয়ম ভাঙলে ১০০, ২০০ বা ৫০০ ডলার ফাইন দিয়ে চলে যায়। একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। এ নিয়ে যেভাবে কথা হচ্ছে, সত্যি বলতে এটা তেমন কোনো বড় ঘটনা বা ইস্যু হওয়ার মত বিষয়ই না।”

সোশাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগ নিয়ে জেমস বলেন, “আমরা যখন ভেনিসে চলে এসেছি, তখন এই কথাগুলো উঠছে। এখন শুধু সোশাল মিডিয়ার যুগ, সবারই স্বাধীনতা আছে সেখানে বিভিন্ন কিছু লেখার। মানুষ যা মন চায় লিখতে পারে, এমনকি বড় বড় রাজনীতিবিদদের নিয়েও তো কত কিছু লেখা হয়! কিন্তু তথ্য প্রমাণ ছাড়া এসব কথার কোনো ভিত্তি থাকে না।”

জেমস আরও জানিয়েছেন, তারা স্বাভাবিক নিয়মেই হোটেলের চাবি জমা দিয়ে বের হয়েছেন। তার দাবি, জরিমানার বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করা একটি অভিযোগ মাত্র।

তিনি বলেন, “ইতালিতে এমন ঘটনা ঘটলে হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের আটকানোর ব্যবস্থা নিতে পারত এবং তাদের পাসপোর্টও হোটেলে দেওয়া ছিল।“

জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জেমস মঞ্চে ওঠার আগে তিনি আয়োজকদের কাছে বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছিলেন। তখন তাকে ‘হয়রানির মুখে পড়তে হয়’।

কনসার্টের ভেন্যুতে তখন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়। জেমসের মঞ্চে উঠতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তিনি মঞ্চে ওঠেন বলেও জানিয়েছেন রবিন।

ঘটেছিল কী?

ইতালির রোমে জেমসের কনসার্টটি ছিল গেল ১৬ অগাস্টে। জেমস তার দলের লোকজনকে নিয়ে হোটেল ছাড়েন ১৯ অগাস্ট। কনসার্টের তিনদিন পর জেমস তার সঙ্গীদের নিয়ে অভিযোগ তোলেন কনসার্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

কনসার্ট আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন রোমে স্থানীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবিজেন এর প্রধান হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। ফেইসবুক ভিডিওতেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মোয়াজ।

তিনি বলেন, কনসার্টের জন্য চুক্তির ৩০ হাজার ইউরোর মধ্যে জেমসের দল ২৪ হাজার ইউরো বুঝে পেয়েছিল। বাকি ৬ হাজার ইউরো টিকেট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে সংগ্রহের কথা ছিল। 

তার অভিযোগ হল, রাত ৯টায় জেমসের স্টেজে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তার ম্যানেজার ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে জোর জবরদস্তি করে ‘২৪ হাজার ইউরো বুঝে নেওয়ার পর আরও অর্থ দাবি করেন’। সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেমস ‘আটকে রেখে স্টেজে উঠতে দেওয়া হয়নি’। একপর্যায়ে দর্শক হট্টগোল শুরু করলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ক্যাশ কাউন্টার তাদের লোকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাত প্রায় ১০টার দিকে জেমসকে মঞ্চে তোলা হয়।”

স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নৈশভোজসহ চুক্তির একাধিক শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে মোয়াজ বলেন, টিকেট বিক্রির সঠিক হিসাব পাননি তিনি।

“পুলিশি ঝামেলা এড়াতে সকালে সব সমাধান করার কথা বললেও, সকালে হোটেলের চাবি না বুঝিয়ে ও হোটেল কর্তৃপক্ষের পাওনা না মিটিয়ে তারা গোপনে পালিয়ে যান।”

জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে হোটেল কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ারও অভিযোগ করেন মোয়াজ।

তিনি বলেন, হোটেলে গিয়ে তিনি দেখতে পান জেমস ও তার ম্যানেজারসহ সফরসঙ্গীরা হোটেল ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু যাবার আগে হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে গেছেন। এর জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করে আয়োজক কমিটির কাছে।

ফেইসবুকে ছড়ানো ছবিতে দেখা যায়, মেঝেতে প্লাস্টিকের পানির বোতল ও আবর্জনা পড়ে আছে। খাবারের টেবিলে ব্যবহার করা প্লেট, উচ্ছিষ্ট ও রান্নাঘরে ডিম ও নোংরা থালা-বাসন পড়ে আছে।

তবে এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন।

তিনি বলেন, “যে চুক্তি ছিল, সে অনুযায়ী আমরা যথাসময়ে সফলভাবে অনুষ্ঠান করে দিয়েছি। যখন কোনো কনসার্টে চুক্তিবদ্ধ হই, কনসার্ট সফলভাবে শেষ হলে পাওনা পরিশোধ হলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক সেখানেই শেষ। এর বাইরে টিকেট বিক্রি, স্পন্সরশিপ বা পোস্টারিংয়ের হিসাব সম্পূর্ণ আয়োজকদের বিষয়।”

জেমস ও তার সঙ্গীদের নিয়ে তোলা অভিযোগের সূত্রপাত হোটেলকে কেন্দ্র করে বলে দাবি করেন রবিন।

গ্লিটজকে তিনি বলেন, “সেখানে আমাদের ব্যান্ডের জন্য মোট চারটি রুম বরাদ্দ ছিল। জেমস ভাই ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, আমি ছিলাম ২৪৬ নম্বর কক্ষে, আমাদের ব্যান্ডের নিয়মিত সদস্যরা ছিলেন ১৪৪ নম্বর কক্ষে এবং আমেরিকা থেকে আসা একজন অতিথি শিল্পী ছিলেন ৫৪৯ নম্বর কক্ষে।

“আমরা ১৯ তারিখে সব নিয়ম মেনে পাসপোর্ট-এনআইডি জমা দিয়ে হোটেল থেকে চেকআউট করি। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা চলে যাওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর আয়োজককে নাকি জানানো হয়েছে ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি অপরিষ্কার। অথচ সেই কক্ষে জেমস ভাই বা আমি কেউই ছিলাম না। তাছাড়া অন্য সফরসঙ্গীদের ব্যক্তিগত কক্ষ বা বাথরুম ব্যবহারের দায়ভার তো জেমস ভাই বা আমার একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।”

‘আমরা সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেব’

ভেনিসে জেমসের সংবাদ সম্মেলনটি ছিল মূলত ব্যান্ড তারকার কনসার্ট ঘিরে। 

সেখানে ভেনিসের প্রবাসীদের কনসার্টে আসার আহ্বান জানিয়ে জেমস বলেন, “প্রিয় ভেনিসের বাংলা ভাষাভাষী, আপনাদের ২৩ তারিখে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা একটা সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেব এবং সবাই মিলে একটা সুন্দর আনন্দ করব।”

তিনি বলেন, হোটেলে গিয়ে তিনি দেখতে পান জেমস ও তার ম্যানেজারসহ সফরসঙ্গীরা হোটেল ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু যাবার 

জেমস ও তার দল নগরবাউল ভেনিসে ২৩ অগাস্ট কনসার্ট শেষে ইতালির আরও কয়েকটি শহরে কনসার্ট করে ৫ সেপ্টেম্বর সুইডেনে কনসার্ট করবেন।

ইউরোপ সফর শেষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ইতালিতে জেমসের কনসার্ট ঘিরে কী হয়েছিল?