Published : 20 Aug 2026, 10:14 PM
ইতালির রোমে একটি কনসার্ট ঘিরে সংগীত শিল্পী মাহফুজ আনাম জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গ, টিকেট বিক্রির অর্থ নিয়ে নেওয়া এবং হোটেল কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ার মত অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ অগাস্ট ওই কনসার্ট হয়েছে; এর তিন দিন পর জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে অভিযোগ তোলেন কনসার্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
তবে এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন।
কনসার্ট আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন রোমে স্থানীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান এবিজেন এর প্রধান হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। ফেইসবুক ভিডিওতেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মোয়াজ।
তিনি বলেন, কনসার্টের জন্য চুক্তির ৩০ হাজার ইউরোর মধ্যে জেমসের দল ২৪ হাজার ইউরো বুঝে পেয়েছিল। বাকি ৬ হাজার ইউরো টিকেট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু আগমুহূর্তে ‘নাটকীয় পরিস্থিতি’ তৈরি করা হয়।
“রাত ৯টায় জেমস ভাইয়ের স্টেজে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তার ম্যানেজার ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে জোর জবরদস্তি করে ২৪ হাজার ইউরো বুঝে নেওয়ার পর আরও অর্থ দাবি করেন। সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেমস ভাইকে আটকে রেখে স্টেজে উঠতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে দর্শক হট্টগোল শুরু করলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ক্যাশ কাউন্টার তাদের লোকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার পর রাত প্রায় ১০টার দিকে জেমস ভাইকে মঞ্চে তোলা হয়।”
স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নৈশভোজসহ চুক্তির একাধিক শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে মোয়াজ বলেন, টিকেট বিক্রির সঠিক হিসাব পাননি তিনি। জেমসের ম্যানেজার টিকেট কাউন্টারে বসে টিকেট বিক্রির অর্থ নিয়ে নেন। এ নিয়ে আপত্তি জানালে জেমসকে মঞ্চে উঠতে দেওয়া হবে না বলে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
“পুলিশি ঝামেলা এড়াতে সকালে সব সমাধান করার কথা বললেও, সকালে হোটেলের চাবি না বুঝিয়ে ও হোটেল কর্তৃপক্ষের পাওনা না মিটিয়ে তারা গোপনে পালিয়ে যান।”
জেমস ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে হোটেল কক্ষ নোংরা করে রেখে যাওয়ারও অভিযোগ করেন মোয়াজ।
তিনি বলেন, হোটেলে গিয়ে তিনি দেখতে পান জেমস ও তার ম্যানেজারসহ সফরসঙ্গীরা হোটেল ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু যাবার আগে হোটেলের কক্ষ নোংরা করে রেখে গেছেন। এর জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করে আয়োজক কমিটির কাছে।
ফেইসবুকে ছড়ানো ছবিতে দেখা যায়, মেঝেতে প্লাস্টিকের পানির বোতল ও আবর্জনা পড়ে আছে। খাবারের টেবিলে ব্যবহার করা প্লেট, উচ্ছিষ্ট ও রান্নাঘরে ডিম ও নোংরা থালা-বাসন পড়ে আছে।
আয়োজকের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন বলেন, “যে চুক্তি ছিল, সে অনুযায়ী আমরা যথাসময়ে সফলভাবে অনুষ্ঠান করে দিয়েছি। যখন কোনো কনসার্টে চুক্তিবদ্ধ হই, কনসার্ট সফলভাবে শেষ হলে পাওনা পরিশোধ হলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক সেখানেই শেষ। এর বাইরে টিকেট বিক্রি, স্পন্সরশিপ বা পোস্টারিংয়ের হিসাব সম্পূর্ণ আয়োজকদের বিষয়।
“ইতালিতে আমাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই বা কোনো ট্রানজেকশনও করিনি। ফলে ‘অর্থ আত্মসাতের’ প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি রোমে কনসার্ট শেষে আমরা আরও তিন দিন ইতালিতে ছিলাম। কনসার্টের পরদিনই ভেনিস চলে যাইনি। অর্থ আত্মসাৎ, অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া- এর কোনো ভিত্তি নেই।”
জেমস ও তার সঙ্গীদের নিয়ে তোলা অভিযোগের সূত্রপাত হোটেলকে কেন্দ্র করে বলে দাবি করেন রবিন।
গ্লিটজকে তিনি বলেন, “সেখানে আমাদের ব্যান্ডের জন্য মোট চারটি রুম বরাদ্দ ছিল। জেমস ভাই ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, আমি ছিলাম ২৪৬ নম্বর কক্ষে, আমাদের ব্যান্ডের নিয়মিত সদস্যরা ছিলেন ১৪৪ নম্বর কক্ষে এবং আমেরিকা থেকে আসা একজন অতিথি শিল্পী ছিলেন ৫৪৯ নম্বর কক্ষে।
“আমরা ১৯ তারিখে সব নিয়ম মেনে পাসপোর্ট-এনআইডি জমা দিয়ে হোটেল থেকে চেকআউট করি। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা চলে যাওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর আয়োজককে নাকি জানানো হয়েছে ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি অপরিষ্কার। অথচ সেই কক্ষে জেমস ভাই বা আমি কেউই ছিলাম না। তাছাড়া অন্য সফরসঙ্গীদের ব্যক্তিগত কক্ষ বা বাথরুম ব্যবহারের দায়ভার তো জেমস ভাই বা আমার একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।”
আয়োজকদের অভিযোগ থাকলে তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন রবিন।
তার কথায়, “ইতালির আইন অনেক কঠোর। যদি সত্যি চুক্তি ভঙ্গ বা আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে সোশাল মিডিয়ায় দাঁড়িয়ে কিংবা খোলা মাঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভিত্তিহীন দাবি না করে আয়োজকদের প্রমাণসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
“আমরা আইনিভাবেই তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধু প্রচারের জন্য মিডিয়াতে এসব বলা আমাদের সম্মানহানি করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
জেমস ও তার দল নগরবাউল এখন ইতালির ভেনিসে আছেন। সেখানে ২৩ অগাস্ট কনসার্টে অংশ নেবেন। এরপর ইতালির আরও কয়েকটি শহরে কনসার্ট করে ৫ সেপ্টেম্বর সুইডেনে কনসার্ট করবেন।
ইউরোপ সফর শেষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।