১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আমি রাজনীতি বুঝি না, করিও না: আদালতকে অপু বিশ্বাস

“আমি একজন অভিনেত্রী; অভিনয় করার জন্য অনেক কিছু করতে হয়েছে,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2025, 04:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন শুনানিতে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস আদালতকে বলেছেন, তিনি রাজনীতি বোঝেন না, করেনও না।

রোববার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তিনি এ কথা বলেন।

গত ২ জুন হাই কোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান অপু বিশ্বাস। জামিনের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় রোববার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।

অপু বিশ্বাসের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মান্নান খান জামিন শুনানি করেন। 

তিনি বলেন, “আসামি যে অর্থের জোগান দিয়েছেন তা এজাহারে বলা নাই। নুসরাত ফারিয়াকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বাদী হলফনামা দিয়ে বলেছেন, আমার ভুল হয়েছে৷ 

“আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আসামি একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তার জামিন চাই। পরে আমরা ট্রায়াল ফেস করব। যেকোনো শর্তে জামিনের প্রার্থনা করছি।”

এসময় বিচারক আসামি অপু বিশ্বাসের কাছে তার বক্তব্য জানতে চান। তিনি দুইবার মাথা নেড়ে ‘না’ উত্তর দেন। এসময় তার মুখে হাসিও দেখা যায়। 

তখন পাশ থেকে আইনজীবীরা বলতে থাকেন, অপু বিশ্বাস ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী। টাকার বিনিময়ে মঞ্চে-স্টেজে নেচে-গেয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে এগিয়ে দিতেন। তিনি আবার হাসেন।

অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “এটা একটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের মামলা। হত্যাচেষ্টা এবং গুরুতর জখমের অভিযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী, জামিন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

“গত ১৯ জুলাই ছিল জুমার দিন। ভোরবেলা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত র‌্যাব,পুলিশ, সেনাবাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এদৃশ্য দেখে সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। লোকহর্ষক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”

কৌঁসুলি সুমন বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হওয়ার পেছনে আশেপাশের লোকজন প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে কাজ করেছে। এদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যারা ছিল সবাই শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছে। 

“এই অপু বিশ্বাস, ফেরদৌসরা ভেবেছিল- শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে। এখনো বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনা ফিরে আসবে। ঘটনার সাথে জড়িত। সে জামিন পাওয়ার হকদার না।”

বগুড়ার মেয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, “আমি একজন অভিনেত্রী। অভিনয় করার জন্য অনেক কিছু করতে হয়েছে। আমি রাজনীতি বুঝি না। রাজনীতি করিও না। করতেও চাই না।” 

এসময় আইনজীবীরা ‘আহা, সাধু সাধু’ বলতে থাকেন। এক আইনজীবী উত্তেজিত হয়ে বলেন, “অপু বিশ্বাস এমপি হতে চাইছিলো। শেখ হাসিনার দোসর সে।”

এসময় অপু বিশ্বাস বলেন, “আমি অভিনেত্রী। আমাকে যে পোশাক দেওয়া হয়, সে পোশাক পরে অভিনয় করতে হয়। অভিনয় এমনই। 

“ওই সময় আমি খারাপ অবস্থায় ছিলাম। পারিবারিক ঝামেলা চলছিল। আমার একটা বাচ্চা আছে।” 

এসময় অপু বিশ্বাসের চোখ ছলছল করছিল।

শুনানি শেষে বিচারক ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অপু বিশ্বাস গত বৃহস্পতিবার আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম ওয়াহিদুজ্জামানের আদালতে জামিননামা দাখিল করেন।

এ মামলায় গত ১৮ মে গ্রেপ্তার হন আরেক চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০ মে জামিন পান নুসরাত ফারিয়া। 

মামলায় বলা হয়েছে, আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই ভাটারা থানার সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এনামুল হকের পায়ে গুলি লাগে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

মামলায় ১৭ অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের ‘অর্থের জোগানদাতা’ বলা হয়েছে।