যে কারণে রাজ কাপুরকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন
পুরুষদের সৌন্দর্য নয় বুদ্ধিমত্তা ও বাচনভঙ্গিই টানত এই মহানায়িকাকে।
গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে দুই যুগ কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়ের ঝড় ছিল চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনকে নিয়ে। মৃত্যুর পরও বাঙালি মনে তার আবেদন কমেনি।
কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডও আলোকিত হয়েছিল সুচিত্রা সেনে; দেবদাস আর আঁধির মতো সিনেমায় হয়েছিলেন আলোচিত।
বলিউডে আরও সিনেমার প্রস্তাব পেলেও মুম্বাই টানেনি বাঙালিকন্যাকে। তখন বলিউডের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকর্তা রাজ কাপুরকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
কেন? অতীত খুঁড়ে তা তুলে এনেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
সাংবাদিক অমিতাভ চৌধুরী একটি বই লিখেছিলেন ‘আমার বন্ধু সুচিত্রা সেন’। সেই বই লিখতে গিয়ে মহানায়িকার সঙ্গে তার অনেক কথোপকথন হয়েছিল। তখনই সুচিত্রা সেন রাজ কাপুরকে প্রত্যাখ্যানের কারণটি জানান বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
অভিনেত্রীর ভাষ্যে
“পুরুষদের সৌন্দর্য আমি দেখি না। তাদের বুদ্ধিমত্তা ও তুখোড় বাচনভঙ্গিই আমাকে টানে। একবার সিনেমার মুখ্য ভূমিকায় আমাকে কাস্ট করতে বাড়িতে এসেছিলেন রাজ কাপুর। আমি চেয়ারে বসতে যেতে আচমকাই আমার পায়ের কাছে এসে বসে পড়েন উনি। একটি গোলাপের তোড়া হাতে চরিত্রটির জন্য প্রস্তাব করে। আমি সাথে সাথেই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তার ব্যক্তিত্ব আমার পছন্দ হয়নি। আমার পায়ের সামনে বসে যে আচরণ তিনি করেছিলেন, তা একজন মানুষের জন্য যথার্থ আচরণ নয়।”
একই বইতে অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে সুচিত্রার বন্ধুত্বের প্রসঙ্গও উঠে আসে। ‘আঁধি’তে সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
সুচিত্রা বলেন, “সঞ্জীবের সাথে দুর্দান্ত বন্ধুত্ব ছিল আমার। তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তি ও একজন ভালো অভিনেতাও ছিলেন। তিনি যখনই কলকাতায় যেতেন, আমার ডেরায় আসতেন।”
‘আঁধি’ সুচিত্রার শেষ দিকের সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘দত্তা’ ও ১৯৭৮ সালে ‘প্রণয় পাশা’র মধ্যদিয়ে ক্যারিয়ারে ইতি টানেন কালজয়ী এ অভিনেত্রী।
