Published : 14 Aug 2026, 04:51 PM
কলকাতার সিরিয়ালের এক সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে হঠাৎ করেই কাজ কমতে শুরু করে দুবছর আগে। সে সময় বহু কাজের চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। পশ্চিববঙ্গে সরকার বদলের পর এই অভিনেতার কাছে স্পষ্ট হয় তার বেকার থাকার কারণ।
আনন্দাবাজার জানিয়েছে, আড়াই দশকের ক্যরিয়ার জয়জিতের। তার শেষ ধারাবাহিক ছিল ‘টুম্পা অটোওয়ালি’। দুবছর বিরতির পর এবার অভিনেতা ‘তিলোত্তমা’ সিরিয়ালের পর্দায় এসেছেন জয়জিৎ।
এর মধ্যে যার জন্য দুর্গতিতে পড়েছিলেন তাকে খোঁচা দিয়ে জয়জিৎ একটি পোস্ট দিয়েছিলেন ফেইসবুকে।
এই লেখা কার প্রতি ইঙ্গিত?
জয়জিৎ বলেন, ‘‘আমি জানতাম না, আমি এতদিন নিষিদ্ধ ছিলাম। কোনো ঘোষণা ছাড়াই নিষিদ্ধ ছিলাম। আমায় নাকি কাজে নেওয়া বারণ ছিল। আমি বুঝিনি। শুধু এইটুকু মনে হয়েছিল, কাজ পাচ্ছি না। আমরা, অভিনেতারা অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকি। মনে হয়েছিল, মাঝেমধ্যে তো এমন সময় আসেই। পরে জানলাম, আমায় কোনো ধারাবাহিকে নেওয়া বারণ।”
কারো নাম না নিয়ে জয়জিৎ বলেন, “তবে যিনি নিতে বারণ করেছিলেন, তাকে সমাজ না বলে দিয়েছে। আমি পিছনের দিকে তাকানোয় বিশ্বাসী নই। কাদা ছোড়াছুড়ি পছন্দ করি না। তাই ইতিবাচক ভাবনা নিয়েই কাজ শুরু করেছি।”
এদিকে ‘তিলোত্তমা’ সিরিজে চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করছেন জিৎ। চিকিৎসা জগতকে ঘিরে রহস্য, ষড়যন্ত্র এবং একের পর এক নাটকীয় মোড়ে এগোচ্ছে ধারাবাহিকের গল্প।
এই সিরিয়ালের নাম ঘোষণার পর থেকেই অনেকে এই ধারাবাহিকের সঙ্গে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন।
নির্মাতারা স্পষ্ট করেছেন, গল্প সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
আনন্দাবাজার জানিয়েছে, টলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজক স্বরূপ বিশ্বাসকে ঈঙ্গিত করেই কথাগুলো বলেনছেন অভিনেতা। তিনি টালিগঞ্জের সাবেক ফেডারেশন সভাপতি ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরাডুবিতে বদলে যায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপট।
গেল ৪ জুন স্বরূপকে দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। পরে অবশ্য জামিনে মুক্ত হন তিনি।
স্বরূপের রোষানলে পড়ে ‘ব্যান কালচারের’ স্বীকার হয়েছিলেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য, প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত, অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রসহ আরও কয়েকজন।
‘অনিয়মগুলো জানতাম বলেই বিরোধিতা করেছিলাম,’ স্বরূপের গ্রেপ্তারের পর বললেন অনির্বাণ