১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

না ফেরার দেশে ষাটের দশকের অভিনেত্রী নাসিমা খান

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি; ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 11:52 PM

Updated : 12 Oct 2026, 12:34 AM

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার লুবানা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান গ্লিটজকে বলেন, “নাসিমা খান আন্টি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার লুবানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি; ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পান।

তিনি আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমদের মত গুণী অভিনেতাদের বিপরীতে কাজ করেছেন।

শুধু ঢাকার চলচ্চিত্রেই নয়, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের চলচ্চিত্রেও সুনাম অর্জন করেছিলেন নাসিমা খান।

অভিনেত্রীর মৃত্যুতে স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা ওমর সানি ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, “চলে গেলেন আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় নাসিমা খান আন্টি। তিনি ছিলেন অনেক পুরোনো প্রবীণ শিল্পী এবং ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। তার শিক্ষার পরিধিও ছিল অত্যন্ত গভীর। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তার সঙ্গে অভিনয় করার। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করছি।"

নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ অগাস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী। পারিবারিক সূত্রেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতির সঙ্গে তার পরিচয়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের অন্যতম ছিলেন নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৬১ সালে 'যে নদী মরু পথে' সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'ধারাপাত', 'কার বউ', 'উজালা', 'বেগানা', 'আপন দুলাল', 'উলঝন', 'ম্যায় ভি ইনসান হু', 'দুই ভাই', 'গৌরী', 'আমার বৌ' ও 'ঢেউয়ের পরে ঢেউ'।

লাহোরে নির্মিত 'নয়ি লায়লা নয়া মজনু' (১৯৬৯), 'গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ' (১৯৬৯), 'আঁসু বন গয়ে মোতি' (১৯৭০) ও 'রোড টু সোয়াত' (১৯৭১) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে 'গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ' ছবিটি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি পর্দা থেকে দূরে সরে গেলেও পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফেরেন নাসিমা খান।

এরপর বেশ কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের 'কুসুম কুসুম প্রেম' চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।