Published : 21 Sep 2025, 09:41 PM
জয়া আহসান ও মহসিনা আক্তারের ‘জয়া আর শারমিন’ নামের সিনেমাটির দৃশ্যধারণ হয়েছিল কোভিড মহামারীর মধ্যে। ভিন্ন বাস্তবতায় ভিন্ন আঙ্গিকে সারতে হয়েছিল শুটিংয়ের কাজ।
দুই নারীর সম্পর্ক ও মনস্তত্ব নিয়ে পরিচালক পিপলু আর খান এই সিনেমাটি বানিয়েছেন; যা মে মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির চারমাস পর আসছে ওটিটিতে।
চরকি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘জয়া আর শারমিন’ আসছে বৃহস্পতিবার।

ওটিটিতে মুক্তির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পিপলু আর খান বলেন, "এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের। আমরা যে সময়ের কথা বলতে চেয়েছি বা যেটা দেখাতে চেয়েছি, সেটা সহজেই এবার দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাবে আশা করি।
"সিনেমায় রয়েছে দুই নারীর মনস্তত্ত্ব। আমার মনে হয় নারী দর্শকরা হয়ত একটু বেশি রিলেট করতে পারবেন সিনেমাটি। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের অনেকে আমাকে সিনেমাটি দেখার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন, তারাও সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় ওটিটিতে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়াটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত।"
সিনেমার দৃশ্যধারণ হয়েছে বনানীতে।
মহামারীর সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে পিপলু বলেন, “সেসময় নিশ্চুপ ছিল চারিদিক। কোনো আওয়াজ হত না। লাইভ সাউন্ড রেকর্ড হয়েছে। কোনো ডাবিং করতে হয়নি।”

এই সিনেমার অভিজ্ঞতা জয়া আহসানের কাছে সম্পূর্ণ ‘আলাদা’। তিনি বলেছেন, ‘জয়া আর শারমিনের’ কাজের অভিজ্ঞতা অন্য কাজের সঙ্গে তিনি মেলান না, বা বলা ভালো মেলানো যায় না।
জয়ার ভাষ্য, অন্যান্য কাজে সিনেমার ইউনিট বেশ বড় হয়। এই কিন্তু ‘জয়া আর শারমিন’ সিনেমার ক্ষেত্রে তেমন কিছু ছিল না।
“যে কয়জন না হলেই না, তাদের নিয়েই কাজটি করা হয়েছে। ক্যামেরা যে চলছে সেটা মাঝে মাঝে বোঝাই যেত না।”
মহামারীর মধ্যে দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে বলে, মায়ের স্বাস্থ্য বিবেচনায় বাড়িতে ফিরতেন না জয়া।
"আমি এই সিনেমার শুটিং শেষ করে বাসায় যেতাম না। কারণ বাসায় মা থাকতেন। দায়িত্বশীলতা থেকেই এটা করতাম আমরা। আমার সিনেমায় যে ড্রেসগুলো পরতাম, সেগুলো নিজেরাই ধুতাম, রোদে শুকিয়ে আয়রন করতাম। পরার আগে এতবার আয়রন করা হত, মনে হত যেন কাপড়গুলো পুড়েই যাবে। জার্ম যেন না থাকে সেজন্য আমরা ওগুলো করতাম।"
এই সিনেমায় পরিচালক পিপুল খান তার অভিনয় শিল্পীদের কাজের যে স্বাধীনতা দিয়েছেন তা বিরল বলে মন্তব্য করেছেন ‘জয়া আর শারমিনের’ শারমিন চরিত্রের অভিনেত্রী মহসিনা আক্তার।
তিনি বলেন, "আমাকে যতটুকু বলা হত, ততটুকুই করতাম শুরুর দিকে, কিন্তু আমার ইচ্ছা হত ইম্প্রোভাইজ করার। কয়েকবার ইম্প্রোভাইজ করার পর পরিচালক যখন বললেন যে সব ঠিক আছে, তখন আমি নিশ্চিত হলাম এবং পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে সেভাবে কাজ করতাম। ইম্প্রোভাইজেশন করতে দিতে সহশিল্পী এবং পরিচালকের সাহস লাগে।"

একজন অভিনেত্রী ও তার গৃহকর্মীর আবদ্ধ বাড়িতে দিন কাটছে। প্রথম দিকে তাদের সম্পর্কটা ছিল পেশাগত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের পরিধি বাড়তে থাকে। একসঙ্গে রান্না, গল্প করা, পুরোনো স্মৃতিচারণা সবকিছুতেই তারা একে অপরের সঙ্গী হয়ে ওঠে।
তারপরও এ ঘনিষ্ঠতার মধ্যে ছিল অদৃশ্য এক দেয়াল। দুই নারীর সম্পর্ক ভঙ্গুর হয়ে ওঠে একটা পর্যায়ে।
সিনেমার অতিথি চরিত্রে আছেন তানজিম সাইয়ারা তটিনী; গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পিপলু আর খান ও নুসরাত ইসলাম মাটি।
আরও পড়ুন: