Published : 28 Nov 2025, 09:43 PM
এদেশের মানুষের মধ্যে ‘ভূমিকম্পের রেখার চাইতে অনেক বড় বিভেদ রেখা বিদ্যমান’ বলে মন্তব্য করেছেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী।
তিনি বলেছেন, “সংগীত মানুষে মানুষে এই বিভেদ দূর করতে পারে।”
শুক্রবার ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগীতশিল্পী ফাহ্মিদা খাতুন বলেন, “আমরা অনেক বাধা অতিক্রম করে সংগীত শিক্ষা করেছি। বর্তমান প্রজন্ম অত্যন্ত ভাগ্যবান তারা জীবনের শুরুতে ছায়ানটের মত একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।”
সমাবর্তনে ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের ১৪২১-১৪৩০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী অভিজ্ঞানপত্র দেওয়া হয়। চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩১ জন সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে মঞ্চে নিয়ে আসেন সংগীত বিদ্যায়তনের শুরু অর্থাৎ ১৯৬৩ সালে ভর্তি হয়ে ১৯৬৭ সালে উত্তীর্ণ দুই শিক্ষার্থী সেলিনা মালেক চৌধুরী ও ইফ্ফাত আরা দেওয়ান।
‘শিক্ষার্থীরা বাজাও তুমি কবি’, ‘নবীন আশা জাগল রে আজ’ ও ‘এমন মানব জনম আর কি হবে’ এই তিনটি গান গেয়ে প্রধান অতিথিকে বরণ করে নেন।
শুরুতে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্বাগত সম্ভাষণ জানান। পরে প্রধান অতিথি ফাহ্মিদা খাতুনের উপর একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপনের পর তিনি সমাবর্তন ভাষণ দেন।
সভাপতির কথনের পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিজ্ঞানপত্র বিতরণ করা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল সেরা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন দীপ্র নিশান্ত, নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, লোকসংগীত পরিবেশন করেন মতিউর রহমান বকুল।
দ্বৈত কণ্ঠে রাগ হংসধ্বনি পরিবেশন করেন দিপু সমদ্দার ও লায়েকা বশীর, একক তবলাবাদন করেন অনন্য ইগ্নেসিউস রোজারিও, মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন দীপান্বিতা আনজুম এবং ভরতনাট্যম্ পরিবেশন করেন রিতু পাল।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।