Published : 23 Jul 2025, 09:29 PM
ভারতীয় মঞ্চনাটকের অন্যতম পথিকৃৎ, ‘থিয়েটার অব রুটস’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ রতন থিয়াম আর নেই।
হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে মারা গেছেন তিনি, বয়স হয়েছিল ৭৭।
ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়া রতন থিয়াম মণিপুরী নাট্য জগতের গুরুত্বপূর্ণ নাম। একের পর এক তিনি লিখেছেন নাটক, মঞ্চে দিয়েছেন নির্দেশনা।
‘চক্রব্যূহ’ ও ‘ঋতুসংহারমের’ মত নাটক নির্মাণ করেছেন। তার থিয়েটারে স্থান পায় লোকসংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, দার্শনিক গভীরতা ও প্রথা ভাঙার দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি ‘কোরাস রেপার্টরি থিয়েটার’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ছিলেন। ভারতের জাতীয় নাট্যবিদ্যালয়ের (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা, এনএসডি) চেয়ারম্যানও ছিলেন। তার রচিত ও নির্দেশিত নাটক শুধু মণিপুর নয়, গোটা ভারতের কোটি দর্শকের মনে গেঁথেছে। নাট্য জগতের বাইরে তিনি একজন চিত্রশিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মণিপুর সরকার। ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনের মানুষেরাও শোক জানিয়েছেন। নাট্যকার শুভাশিস সিনহা, নাট্যনির্দেশক অলক বসু, শামীম সাগর, অভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা এবং থিয়েটার পত্রিকা ক্ষ্যাপাসহ অনেকে শোক প্রকাশ করেছে।
মণিপুরি থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা ফেইসবুকে লেখেন, “নিজেকে একলব্য ভেবে গুরুজি রতন থিয়ামকে আমরা দেখতাম গুরু দ্রোণাচার্যের মত।দূর থেকে তাকে অনুসরণ করতাম, নিজের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার অদম্য সাহস আর উৎসাহ যেন তার কাছ থেকেই মিলত। আজ গুরুজীর মহাপ্রয়াণে থিয়েটারে আরও শূন্যতা অনুভব করছি।”
থিয়েটার পত্রিকা ক্ষ্যাপার নির্বাহী সম্পাদক নাট্যকার অপু মেহেদী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রতন থিয়ামের মৃত্যুতে উপমহাদেশের থিয়েটার চর্চার এক পথিকৃতের প্রস্থান হল। বাংলাদেশের থিয়েটার চর্চায়ও তিনি নানাভাবে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।”
রতন থিয়ামের প্রযোজনার মধ্যে রয়েছে ‘উত্তর প্রিয়দর্শী’, ‘আশিবাগি ইশেই’, ‘ইম্ফল ইম্ফল’, ‘কারানাভারাম’ (মহাভারতের কর্ণকে নিয়ে), ‘দ্য কিং অব ডার্ক চেম্বার’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাজা’ অবলম্বনে) এবং বহুল আলোচিত ‘ম্যাকবেথ’।
১৯৮৪ সালের ২০ জানুয়ারি মনিপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৮৭ সালে সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৯ সালে পদ্মভূষণ পান তিনি।