Published : 23 Dec 2025, 03:04 PM
‘ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস’ গানটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ১৯৮৮ সালে; আর এ বছর ক্রিসমাসের ঠিক আগেই বিদায় নিলেন গানটির লেখক-গায়ক ক্রিস রিয়া। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
স্লাইড ঘরানায় গিটার বাজানো এই রক ও ব্লুজ শিল্পীর ২৫টি স্টুডিও অ্যালবামের মধ্যে দুটি উঠেছিল ব্রিটিশ টপ চার্টে।
ভারী কর্কশ কণ্ঠ, আর তার চেয়েও গভীর-সহজ লিরিক ছিল ক্রিস রিয়ার গানের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
২০০১ সালে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা রিয়া ২০১৬ সালে স্ট্রোককেও পরাস্ত করেছিলেন। সোমবার রিয়ার পরিবার এক সংবাদ বিবৃতিতে ‘সামান্য কয়েক দিনের অসুস্থতার পর’ শিল্পীর প্রয়াণের খবর জানিয়েছে।
ষাটের দশকে ক্রিস রিয়া বেড়ে ওঠেন মিডলসব্রোর কর্মজীবী পরিবেশে। ফলে শিল্পী জীবনের শুরুটাও হয়েছে দেরিতে।
১৯৭৮ সালে বেরোয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘হোয়াটএভার হ্যাপেন্ড টু বেনি সান্তিনি?’। চুক্তির সময় রেকর্ড লেবেল তাকে ওই বেনি সান্তিনি নামটি গ্রহণ করতে বলেছিল।
ওই প্রথম অ্যালবামের একটি গান ‘ফুল (ইফ ইউ থিংক ইট’স ওভার) স্থান করে নেয় সে বছরের গ্র্যামি নমিনেশনে।
বেলফাস্ট টেলিগ্রাফের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “কর্মজীবী শ্রেণির অনেকের জন্যই সে সময় রক মিউজিক আসলে বেছে নেওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। এটিই ছিল একমাত্র পথ। তাদের সৃজনশীলতার একমাত্র উপায়।
“যখন ছোট ছিলাম, সবচেয়ে বেশি আমি চাইতাম সিনেমার জন্য সংগীত তৈরি করতে। কিন্তু ১৯৬৮ সালের মিডলসব্রো সিনেমার সংগীত তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান ছিল না।”
সমসাময়িক রকস্টারদের চেয়ে নিজেকে একটু দূরেই রেখেছেন রিয়া, এ বিষয়ে কথাও বলেছেন।
“মার্ক নপফ্লার বা এরিক ক্ল্যাপটনের সঙ্গে তুলনা করলে আমার মনে হয় আমি নিঃসন্দেহে ট্রেন মিস করেছিলাম।”
সেই ট্রেন তার মিলল ১৯৮৯ সালে। বেরোলো ১০ নম্বর অ্যালবাম ‘দ্য রোড টু হেল’। ওই অ্যালবাম তাকে তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ রক ও ব্লুজ শিল্পী হিসেবে। তার পরের অ্যালবাম অবের্জও (১৯৯১) ইউকে চার্টের শীর্ষৈ ওঠে। তার ভক্তদের বড় অংশ ছিল মধ্যবয়সী পুরুষ শ্রোতা।
এ বছরই ‘মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার ফুড ক্রিসমাস’ বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে রিয়ার জনপ্রিয় গান ‘ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস’। গানটি প্রথম বেরিয়েছিল ১৯৮৬ সালে।