লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক প্রকল্প বাতিলের সুপারিশ
সেখানে সাফারি পার্ক হলে বনাঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, বলছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
মৌলভীবাজারের লাঠিটিলায় সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক প্রকল্পের যে অনুমোদন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার, সেটি বাতিলের সুপারিশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, তাদের গঠিত কমিটি প্রকল্পটি বাতিলের সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে সাফারি পার্ক হলে বনাঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার (১ম পর্যায়) প্রকল্পটি একনেক সভায় ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত হয়েছিল। সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনের পর থেকে পরিবেশ ও অধিকারকর্মীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, একনেক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব নিরূপণে চলতি বছরের ২১ অগাস্ট চার সদস্যের কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়।
কমিটিতে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইসতিয়াক উদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করা হয়। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমদ এবং বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদকে সদস্য করা হয়।
ওই কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, লাঠিটিলা বন ইন্দো-বার্মা জীববৈচিত্র্য হটস্পটের অংশ এবং হাতি করিডোর। সাফারি পার্কের ফলে সৃষ্ট প্রভাবসমূহ বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি মনে করছে, প্রাকৃতিক বনে সাফারি পার্ক নির্মাণ করা উচিত নয়। তাই প্রকল্পটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে বনটির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করতে বন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ৫০ কিলোমিটার উত্তরে এই বনাঞ্চলে ২০৯ প্রজাতির প্রাণী এবং ৬০৩ ধরনের উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে।
পুরনো খবর-
