পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকাই রইল

বৈঠক শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, খসড়া গেজেটে ৫টা গ্রেড ছিল; সেটা আমরা ৪টায় নিয়ে এসেছি। সর্বনিম্ন গ্রেডে (পঞ্চম) যে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ছিল সেটা ঠিকই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখনকার চতুর্থ গ্রেডেও ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি হবে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Nov 2023, 03:06 PM
Updated : 26 Nov 2023, 03:06 PM

খসড়া গেজেট প্রকাশের পর মজুরি বোর্ডের সপ্তম ও চূড়ান্ত সভায় পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরির হার অপরিবর্তিত রেখে এবং অন্যান্য গ্রেডে কিছুটা বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা।

গত ১২ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের খসড়া গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী খসড়ার ওপর পরামর্শ ও সুপারিশের জন্য ১৪ দিন সময় রেখে রোববার মজুরি চূড়ান্ত করার জন্য সপ্তমবারের মতো বৈঠকে বসে মজুরি বোর্ড।

বৈঠক শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, “খসড়া গেজেটে ৫টা গ্রেড ছিল; সেটা আমরা ৪টায় নিয়ে এসেছি। সর্বনিম্ন গ্রেডে (পঞ্চম) যে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ছিল সেটা ঠিকই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখনকার চতুর্থ গ্রেডেও ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি হবে।”

আগের চতুর্থ গ্রেডকে তৃতীয় গ্রেডের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে চতুর্থ গ্রেডে যাদের ১৩ হাজার ২৫ টাকা পাওয়ার কথা ছিল তারা তৃতীয় গ্রেডের ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা করে পাবেন। দ্বিতীয় গ্রেডে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার ২৭৩ টাকা করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডে ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ৩৫ টাকা করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, “মালিক ও শ্রমিকপক্ষ থেকে যে আপত্তি দিয়েছিল সেটা পর্যালোচনা করে আজ চূড়ান্ত করেছি। মালিকপক্ষ থেকে ১৭৩টি সংগঠন আপত্তি ও সুপারিশ দিয়েছে। শ্রমিক সংগঠন থেকে ২৫টি সংগঠন আপত্তি ও সুপারিশ করেছে।”

Also Read: ৫৬.২৫% বাড়িয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “শ্রমিকপক্ষের মূল দাবি ছিল একটা গ্রেড কমানো। কারণ, হেলপার যখন অপারেটর গ্রেডে আসে অর্থাৎ পঞ্চম গ্রেড থেকে যখন চতুর্থ গ্রেডে আসে সেখানে বেতনের পার্থক্য খুবই কম। সে কারণে চতুর্থ গ্রেডকে তৃতীয় গ্রেডের সঙ্গে মার্জ করা হয়েছে। আজকের মজুরিটা সর্বসম্মতি ক্রমে নির্ধারিত হয়েছে।”

মজুরি বৃদ্ধির আগের ঘটনাগুলো স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে ৯৩০ টাকা দিয়ে প্রথম মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছিল। সেখান থেকে ১২ বছর পর ২০০৬ সালে ১৬৬২ টাকা হয়েছিল। সেখান থেকে হয়েছিল ৩০০০ টাকা। তিন বছরের মাথায় ২০১৩ সালে নতুন ওয়েজবোর্ড করে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়। তারপর ২০১৮ সালে মজুরি নির্ধারণ করি ৮০০০ টাকা। সাধারণত বেতন উপরের দিকে গেলে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে। তবুও এবারই সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইবিসি ও অন্যান্য সব শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে মোটামুটি একটা সন্তোষজনক অবস্থায় মজুরিটা নির্ধারিত হয়েছে বলে জানান সিদ্দিকুর।

“আজকে যে আমরা চূড়ান্ত করছি সেটা প্রধানমন্ত্রী জানেন। শ্রমিক ভাইবোনদেরকে রেশনিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আগামী নির্বাচনের পরে এটা যাতে করা যায় সেই চেষ্টা আমরা করছি। বাড়ি ভাড়া যাতে না বাড়ে সেজন্য লোকাল এমপি-ডিসিদের সঙ্গে কথা বলেছি,” বলেন তিনি।

এদিকে মজুরি বোর্ডের ওই ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জানায়, ঘোষিত মজুরি কাঠামো গ্রহণযোগ্য নয়। মজুরি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে শ্রমকিদের কাজে ফেরানো হলেও চূড়ান্ত মজুরি কাঠামোতে বর্তমান বাজার অনুযায়ী অন্তত বেঁচে থাকার মতো মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি।

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে গত এপ্রিলে নিম্নতম মজুর বোর্ড গঠন করে সরকার। গত ২২ অক্টোবর এই বোর্ডের চতুর্থ সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকা ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করেন। আর মালিকপক্ষ ১০ হাজার ৪০০ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়।

ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে– এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরে আন্দোলন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকরা। পরে তা আশুলিয়া, সাভার ও ঢাকার মিরপুরে ছড়িয়ে পড়ে।

নেক জায়গায় শ্রমিকরা ভাংচুর শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘাতে এবং এক কারখানায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় প্রাণ যায় অন্তত দুইজনের। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যায়ক্রমে পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকরা মঙ্গলবারও গাজীপুরে দুই বাসে আগুন দিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।