চীন, মালয়েশিয়া ও জর্ডান থেকেও আসবে সার

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 02:19 PM
Updated : 22 Nov 2023, 02:19 PM

রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় নতুন করে চীন, মালয়েশিয়া ও জর্ডান থেকে নন-ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ভার্চুয়ালি ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বিএডিসি এতোদিন কেবল সৌদি আরব, মরক্কো, তিউনিশিয়া, কানাডা, রাশিয়া এবং বেলারুশের সাথে নন-ইউরিয়া সার আমদনির চুক্তিতে ছিল। এসব চুক্তির ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে চীন, মালয়েশিয়া ও জর্ডানের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে নন-ইউরিয়া সার (টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি) আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ১৬ লাখ টনের কিছু বেশি। সম্প্রতি নরসিংদীর পলাশে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতার একটি ইউরিয়া সার কারখানা উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া পুরনো সার কারখানা ও বহুজাতিক কোম্পানি কাফকোতে উৎপাদিত সার মিলিয়ে দেশীয় উৎপাদন থেকেই ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের কোভিড মহামারী ও পরবর্তীতে ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম তিন গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। সেই সময় থেকে সারের বিকল্প উৎস নিয়ে আলোচনা করছিল সরকার।

পরিবেশ বান্ধব দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন

এদিকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় একটি ১১ মেগাওয়াট ক্ষমতার বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও এর ক্রয়মূল্য ঠিক করেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিদ্দিক ফেব্রিক্স, ইনটেক ইঞ্জিনিয়ার্স ও সাউদি জার্মান পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। তারাই এই কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ করবে। ২৫ বছর আয়ুষ্কাল ধরে ও মোট ব্যয় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা হিসাব করে সেখান থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার দশমিক ১৯ সেন্ট বা ২১ টাকা ১০ পয়সায় কিনে নেবে।

এছাড়া ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

‘বিদ্যুৎ না নিলে, টাকাও দেওয়া হবে না’ মর্মে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে এই কেন্দ্রটি। চীনের বিইআইএইচসিএল, বিজেডএইচই-ইএনএএম এবং এমএনএস এর যৌথ কনসোর্টিয়াম এই কেন্দ্রের নির্মাতা।