কয়লা সঙ্কটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে ২০০ মেগাওয়াটে নেমেছে।
Published : 04 Aug 2022, 12:04 AM
বড়পুকুরিয়া খনি থেকে পুনরায় কয়লা উত্তোলন শুরু করতে আরও দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।
অর্ধ শতাধিক চীনা শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কাজ বন্ধ রয়েছে কয়েকদিন ধরে।
দিনাজপুরে এই খনিটির পাশেই বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই খনির উপরই নির্ভরশীল কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এখন কয়লা সঙ্কটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে একটি কেবল চালু আছে। ফলে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে ২০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
স্পট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ করা এবং ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখায় সারাদেশেই কয়েক ঘণ্টা করে লোড শেডিং দিতে হচ্ছে সরকারকে। মঙ্গলবার ১৩ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোড শেডিং ছিল প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট।
এরমধ্যে দেশের কয়লার উৎপাদিত বড়পুকুরিয়ার পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা না যাওয়ায় সঙ্কট গভীর হয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম সরকার বুধবার বিডিনিউজ টোযেন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২৭ জুলাই থেকে আমরা খনিতে নতুন কূপের ১৩শ ৬ ফেইজে পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন শুরু করেছিলাম।
“কিন্তু হঠাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ায় ৩০ জুলাই থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। ৭৭ জন চীনা নাগরিক কোভিড পজিটিভ হয়েছেন।”
খনিটির ভেতরে ৩০০ চীনা ও ৪০০ বাংলাদেশি কাজ করেন; অনেক বাংলাদেশিও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান সাইফুল।
তবে মাঝের মাঝামাঝিতে উত্তোলন পুনরায় শুরুর আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা ধারণা করছি ১৫ অগাস্টের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারব।”
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের ৫২৪ মেগাওয়াট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ৪৪৪ মেগাওয়াট।
কয়লা স্বল্পতার কারণে এখন চালু একটি ইউনিট থেকে ২০০ মেগাওয়াটের আশেপাশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে প্রতিদিন।
গত ১ মে কয়লা খনির ১৩শ’ ১০ ফেইজের কয়লা উত্তোলন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে এ খনির কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে মজুদ কয়লা দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। নতুন কূপের কয়লা আসার আগেই খনিতে কাজ বন্ধ হয়ে গেল।
তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কয়লা সরবরাহ তিন মাস ধরে বন্ধ। যেভাবে চলছি সেভাবে চলতে আর কয়েকদিন হয়ত অসুবিধা হবে না।”
তবে এরপর সমস্যা বাড়বে বলে তার কথায় স্পষ্ট।
খনির প্রধান নির্বাহী সাইফুল বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলছে, পরিকল্পিতভাবে (কয়লা) ব্যবহার করে কেন্দ্র চালু রাখা যাবে। আরেকটু কয়লা বেশি পেলে হয়ত ভালো হত।”
বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন ৫২০০ টন কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ার কথা বলেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা।
স্বাভাবিক উৎপাদনের সময় খনি থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টন পর্যন্ত কয়লা তোলা হয়।
খনির প্রধান নির্বাহী সাইফুল বলেন, “উত্তোলন শুরু হলে ২০০০ থেকে ২২০০ টন করতে পারব। তারা সাধারণত (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ২৫০০ থেকে ৩০০০ নেয়।”
দেশের পাঁচটি কয়লা খনির মধ্যে একমাত্র বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন করা হয়। দেশের এই খনিতে মজুদের অনুমানিক পরিমাণ ৩৯ কোটি টন।
এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ টনের মতো কয়লা তোলা হয়েছে বলে জানান সাইফুল।