১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন অর্থবছরে ৪.৫% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির

সংস্থাটি বলেছে, চূড়ান্ত হিসাবে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 03:57 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

জুলাইয়ে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটি বলেছে, চূড়ান্ত হিসাবে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে এমনপূর্বাভাস এসেছে।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এডিবি। এতে আমদানি, রপ্তানি, রেমিটেন্স, বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে বিএনপি সরকার, যা এডিবির পূর্বাভাসের চেয়ে ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

গত ১০ জুন বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস। তাতে বলা হয়, গেল অর্থবছরে আগের বছরের (২০২৪-২৫ অর্থবছর) চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে বেড়েছে।

গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রতি বছর এপ্রিলে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রকাশ করে এডিবি। পরে বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে তিনটি আপডেট (সংস্করণ) রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। একটি করা হয় জুলাইয়ে। পরেরটি প্রকাশ করা হয় সেপ্টেম্বরে। আর সর্বশেষটি প্রকাশ করা হয় ডিসেম্বরে।

এবারের জুলাইয়ের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হল বৃহস্পতিবার। পরের তিনটি প্রতিবেদনকে সম্পূরক প্রতিবেদন বলা হয়ে থাকে।

গত ১১ এপ্রিল প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক এপ্রিল সংস্করণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এখন তা কমিয়ে দেওয়া হল।

এর কারণ হিসেবে জুলাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানি আয়ের নেতিবাচক ধারা, বেসরকারি বিনিয়োগের মন্থর গতি, উচ্চ জ্বালানি মূল্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

এপ্রিল সংস্করণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল এডিবি।

জুলাই সংস্করণের প্রতিবেদনে এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে।

“তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।

“এসব সংস্কার বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

একইসঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বিদেশি অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে বলে এডিবি মনে করছে।

এডিবির জুলাই প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিল সংস্করণে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এডিবির বলেছে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রা বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমবে।

আগের মাসের চেয়ে জুনে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও ৯ শতাংশের বেশি। আর অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে নেমেছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে।