হাওরে ৭০% বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে: কৃষি মন্ত্রণালয়
সারা দেশে এবার ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ লাখ টন আসবে হাওর থেকে।
আকস্মিক বন্যার শঙ্কার মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাওর এলাকায় ধান কাটা শুরুর পাঁচ দিনে প্রায় ৭০% বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার কামরুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই অঞ্চলের সাত জেলার হাওরে এবছর বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে। আর হাওর ও হাওরের বাইরে উঁচু জমি মিলে মোট ৯ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ টন চাল।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হাওরে ৭০ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। এর মধ্যে সিলেটে ৫৫ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৭০ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৬৭ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৭৩ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৫৮ শতাংশ, নেত্রকোণায় ৭৭ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
ঈদের আগে গত বুধবার সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কাটা উৎসবে যোগ দেন তিন মন্ত্রী। হাওরে কৃষকদের সঙ্গে ধান কেটে তাদের উৎসাহ দেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।
বোরো ধান কর্তন উৎসবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময়মত ধান ঘরে তুলতে পারলে এ বছর বোরোতে রেকর্ড উৎপাদন হবে।
শুধু সুনামগঞ্জেই এক হাজার কম্বাইন হারভেস্টারে ধান কাটা চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার ধান কাটায় কোনও সমস্যা হবে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জানায়, এবছর সারা দেশে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল।
গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল ৪৮ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ২ লাখ টন চাল।
