ডলার সংকট-আর্থিক খাত নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, অর্থমন্ত্রী বললেন ‘উন্নতি হচ্ছে’

“প্রাথমিক লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে আমরা উন্নতির দিকে যাচ্ছি। আরও কিছুদিন গেলে পরিপূর্ণ চিত্র পাব। সেই পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করছি”, বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2024, 01:59 PM
Updated : 12 Feb 2024, 01:59 PM

ডলার সংকট ও ব্যাংকিং খাতের ‘বিশৃঙ্খলা’ দূর করতে সরকারের চিন্তা জানতে সংসদে দুই স্বতন্ত্র সদস্যের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে উন্নতির দিকে’।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীকে অর্থনীতির আরো নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন সংসদ সদস্যরা।

বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, “ডলার সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। এর সঙ্গে সম্পর্ক মানি লন্ডারিংয়ের। প্রচুর টাকা বিদেশে চলে গেছে। সে কারণে ডলার সংকট আছে।”

সমস্যার সমাধানে ‘অপ্রদর্শিত আয়কে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া দরকার’ মত দিয়ে তিনি বলেন, “বিশেষ ব্যবস্থায় অতীতেও সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত তা না করার কারণে বিদেশে টাকা চলে যাচ্ছে।”

এমন পরিস্থিতিতে অপ্রদর্শিত আয় কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ সরকার দেবে কি না- সেই প্রশ্ন ছিল সোহরাবের। 

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা পর্যালোচনা করছি। শুধু ঢালাও কালো টাকা নয়, গোটা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে আমরা উন্নতির দিকে যাচ্ছি। আরও কিছুদিন গেলে পরিপূর্ণ চিত্র পাব। সেই পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করছি।”

নীলফামারী-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সিদ্দিকুল আলম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, “পত্রপত্রিকায় দেখা যায় সরকারি ও বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?”

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা আগেও বলেছি-সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমরা পর্যালোচনা করছি। এর বিভিন্ন ধারা, অনেক কিছু আছে। আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি একটা উন্নতির ছাপ দেখতে পাচ্ছি। আরও কাজ করতে হবে। সেগুলোর করার পর আমরা মোটামুটি একটা ধারণা দিতে পারব।”

ঢাকা-১৯ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের প্রশ্নে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, “সরকারের পদক্ষেপের ফলে ২০২৩ সালের নভেম্বর হতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুসারে গত ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশে যেখানে জুনে ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।”

রাজস্ব ঘাতটি ২৩ হাজার কোটি টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ডিসেম্বর ২০২৩ মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ঘাটতি রয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা।”

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নে তিনি জানান, বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়নে ২০২৩ সালে জাপান সরকার ৩৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার আর্থিক অনুদান দিয়েছে।”

কুষ্টিয়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুর রউফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৮১ জন আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে।

সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নে তিনি জানান, সারাদেশে টিআইএন নম্বরধারীর সংখ্যা ৯৯ লাখ ৭০ হাজার ৪৭১ জন। এদের মধ্যে যারা রিটার্ন জমা দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৯০১ কোটি টাকা ৬৫ লাখ টাকা।

নোয়াখালী-৩ আসনের মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আয়কর রিটার্ন পদ্ধতি আরও সহজ করার জন্য নতুন রিটার্ন ফরম, এক পাতার রিটার্ন ফরম চালু করা হয়েছে। রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজ করার জন্য টিআরপি (ট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেটর) কার্যক্রম চালু করা হবে।” 

প্রায় শতভাগ মানুষ ফোর জি সুবিধার আওতায়

বরগুনা-২ আসনের সুলতানা নাদিরার প্রশ্নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, দেশে জনসংখ্যার ৯৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ ফোর জি সুবিধার আওতায়। আয়তনের হিসেবে এটি ৮৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী মোবাইল অপারেটরের সাইটের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯০৬টি বলেও জানান তিনি।

হবিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ নির্বাচনের আগে ও পরে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ‘অসত্য ও উসকানিমূলক’ তথ্য আছে এমন ৯ হাজার ৫৯৮ টি লিংক অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অসত্য ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়।”