ডলার আসছে, সাড়া-শব্দ পাচ্ছি: অর্থমন্ত্রী

‘‘রেমিটেন্স বাড়তে শুরু করেছে। ডলার সংকট থাকবে না” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 March 2024, 04:24 PM
Updated : 24 March 2024, 04:24 PM

অফশোর ব্যাংকিং আইন করায় আগামী ঈদের পর সেখানে বিদেশি মুদ্রায় আমানত আসার ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘আনপ্যাকিং দ্যা ইকোনমিক মেনিফেস্টো অব দ্যা আওয়ামী লীগ; ট্রেন্ডস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ফর টুমোরোস বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘রেমিটেন্স বাড়তে শুরু করেছে। ডলার সংকট থাকবে না। অফশোর আইন করেছি, আশা করছি ঈদের পর আসবে। সাড়া-শব্দ পাচ্ছি, এটাতে টাকা পয়সা আসবে।’’

অফশোর ব্যাংকিং হল প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে সম্পূর্ণ বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বিদেশি মুদ্রায় তহবিল সংগ্রহ করে বিনিয়োগ হয় এখানে।

এতদিন সরকারের একটি নীতিমালার মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার অনুমতি দিত বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে নীতিমালাটি আইনে পরিণত করে।

আইনি কাঠামো পাওয়ায় বিদেশি মুদ্রায় অফশোর ব্যাংকিংয়ে আমানত রাখবেন বিদেশিরা আশা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনেকে বলেছিল বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। কই, বাংলাদেশ তো শ্রীলঙ্কা হয়নি। আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে অনেকেই এগিয়ে আসছে।’’

বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে জাপান, কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত বিনিয়োগ করবে। চীনের নেতৃত্বে গঠিত এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে এখন ঋণ দিতে চায় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

চীনের একটি প্রতিনিধি দল একবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছে এবং তারা আবার আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নতুন ব্যাংক তো ঋণ দিতে চায়। এখনই নেওয়া যায়। আমরা ভালো অবস্থানে চলে এসেছি।’’

সেমিনারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার ও বাস্তবায়নে সমস্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ৯টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়ে অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও তার উত্তরণ নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষে কাজ পাচ্ছে না। তাহলে বোঝা যাচ্ছে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে জোর দিতে হবে।’’

প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘ভিয়েতনামের মত দেশে কেন ও কীভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তা আমাদের জানতে হবে। তারা কীভাবে ভালো করল, তাদের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কৌশল কেমন, তা দেখা উচিত।’’

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক –ই-ইলাহী চৌধুরী ডলার সংকট ও রিজার্ভ কমার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেন। বলেন, “আমি হিসাব করে দেখেছি, সমস্ত তেল কোম্পানিগুলো গত তিন বছরে ১৪ বিলিয়ন ডলারের ডাকাতি করেছে।”

আর্থিক খাতের সংস্কারে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ‘‘কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ সব খাতের সূচক কমেছে। এ অবস্থাকে আমাদের বেঞ্চমার্ক হিসেবে দেখা উচিত। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে সেই জায়গায় যেতে সংস্কার করতে হবে।’’

‘উইনার টেকস অল’ নীতিতে চললে সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। এখন কারা ইচ্ছাকৃত কারা অনিচ্ছাকৃত খেলাপি তা শনাক্ত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় এটি হলে অনেক খেলাপিই পার পেয়ে যাবে।’’

এর উত্তরে মসিউর রহমান বলেন, ‘‘নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা করবে তা তো স্বীকার করে নেওয়া হবে। খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা কীভাবে করবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করবে।’’

চিকিৎসা খরচের ৭৩ শতাংশই জোগান দেয় ব্যক্তি

বাংলাদেশে চিকিৎসা খরচের মাত্র ২৭ শতাংশ রাষ্ট্র জোগান দেয়, এমন তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ের প্রবন্ধে বিআইডিএস এর গবেষক আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, “বাকি ৭৩ শতাংশ চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তির পকেট থেকে যায়।”

ব্যক্তির পকেট থেকে যাওয়া খরচের ৬৫ শতাংশ ওষুধে চলে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জিডিপির অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দুই দশমিক ৩৬ শতাংশ।”

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করে অর্থনীতিবিদ ময়নুল আহমেদ বলেন, “বাজেটে নেওয়া পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে বাধা কোথায়, তার রাজনৈতিক ও কারিগরি দিকটি দেখা দরকার।”

ধনীদের সম্পদ বাড়ছে বেশি

তিন মাসে দেশে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব সাড়ে তিন হাজার বাড়ার তথ্য জানিয়ে বিআইডিএস মহাপরিচালক বিনায়েক সেন বলেন, ‘‘আমাদের দেশে ধনী আরো ধনী হয়। গরিবও ধনী হয়, কিন্তু ধনীদের ধনী হওয়ার প্রবণতাটা বেশি। এ কারণে আমাদের বৈষম্যের ধরনটাও আলাদা।”

তিনি বলেন, ‘‘দেশের যদিও অনেক উন্নতি হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্যের হার কমে আসা ও সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে। তারপরেও বৈষম্যটা রয়ে গেছে। শুধু আয়ের দিকে দিয়ে অসমতা নয়, বৈষম্য বেড়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রেও।’’

শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধে বিআইডিএস এর গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের কলেজ থেকে পাস করার তিন বছর পরও ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী বেকার থাকছেন।

গত বছর ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের ওপর বিআইডিএস পরিচালিত গবেষণা থেকে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।