Published : 04 Apr 2023, 04:12 PM
ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি সঙ্কুচিত হওয়ার ঝূঁকি দেখলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ ‘বেশ ভালোভাবে’ মোকাবেলা করছে বলে মনে করে উন্নয়ন সহযোগী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।
সংস্থাটি মনে করে, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সতর্কতামূলক যেসব পদক্ষেপ সময়মত নিয়েছে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে তা মধ্য মেয়াদে দেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার এডিবির অঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং ও সিনিয়ন কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুন চান হং।
অনুষ্ঠানে বর্তমান সময়কে ‘কঠিন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়, বাংলাদেশ বড় বড় সংস্কারগুলো শুরু করায় তা পাবলিক ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট বা ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করবে, অভ্যন্তরীণ সম্পদের সঞ্চালন ও বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে।
চলতি হিসাবের ঘাটতির দিক থেকে চলতি বছর উন্নতির পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, এই ঘাটতি গত অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ১ শতাংশ থাকলেও এবার তা কমে হবে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
আমদানির ওপর কড়াকড়ির কারণে এই ঘাটতি কমে আসবে বলে মনে করে এডিবি। রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবও থাকবে বলে মূল্যায়ন তাদের।
প্রবৃদ্ধি কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে শেষে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটাই কম।
চলতি অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে। গত বছর ৭ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।
প্রবৃদ্ধি কমলেও মূল্যস্ফীতি সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলেও মনে করছে এডিবি। তাদের মতে অর্থবছর শেষে তা গত অর্থবছরের ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে।
সরকার চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬০ শতাংশে রাখার লক্ষ্য স্থির করে বাজেট দিয়েছিল।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, “গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতি বেশি বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনতে হয় এমন পণ্যগুলোর মূল্যবৃদ্ধিও মুদ্রাস্ফীতির কারণ হবে।”
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর গিনটিং বলেন, “ইউক্রেইন রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাহিদা কমে গেছে, রপ্তানির গতিও কমে গেছে।
“বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটা বড় ঝুঁকি হচ্ছে বিশ্বের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনীতি সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া।”
বিনিয়োগও কমবে
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে আসতে পারে। জ্বালানির সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এর প্রধান কারণ। মানুষের আয় কমে যাওয়া, মিতব্যয়িতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়াও বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে।
৫২ বছর বয়সী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব রয়েছে এডিবির। এই সময়ের মধ্যে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে সংস্থাটি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে। সরকারি সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়নে এসব অর্থ খরচ হয়েছে।
বাংলাদেশে ৫০টি চলমান প্রকল্পে ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে।