Published : 04 Dec 2025, 03:41 PM
মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে সুদহার যে পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে তা ব্যবসায়ীরা আর ‘সইতে পারছেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন এপেক্স গ্রুপের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর চলতি অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার আশা দেখিয়েছেন। আর মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামলেই নীতি সুদহার কমিয়ে ঋণ ও আমানতের সুদহারের কাঠামো পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিডা আয়োজিত বিনিয়োগ সংলাপে নাসিম মঞ্জুর বলেন, “আপনার (গভর্নর) কাছে একটা বিনীত নিবেদন, বিজনেস পিপলরা এই ইন্টারেস্ট সইতে পারছি না। আমাদের জন্য ইমপসিবল হয়ে যাচ্ছে।
“স্যার, আমরা সুদের হারের বিপক্ষে না। তবে এখন ব্যবসা করা ভেরি ভেরি ডিফিকাল্ট এবং এই ইন্টারেস্ট রেটটা কীভাবে কমানো যায়। বিশেষ করে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দুটো দেশ বেঞ্চমার্ক। ভিয়েতনাম এবং ইন্ডিয়া- তাদের সাথে আমরা পারছি না। এই কস্ট অব ক্যাপিটাল ফর ম্যানুফ্যাকচারিং লং টার্ম, শর্ট টার্ম কীভাবে কমানো যায়।”
জবাবে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আমাদের ইনফ্লেশনটা যখন কমে যাবে ৮ বা সাড়ে ৭-এ এবং সেটার সাথে কিন্তু ফুল স্ট্রাকচারটা (সুদ হারের) সিঙ্গেল ডিজিট নেমে আসতে পারে।
“তো এইটার জন্য আমাদেরকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। হঠাৎ করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভলি কিছু করাটা খুব মারাত্মক পলিসি রিভার্সাল হয়ে যাবে এবং সেটা করাটা উচিত নয় একেবারে। দরকার হলে ছয় মাস ওয়েট করব আমরা কিন্তু টেকসইভাবে এটাকে আমরা নামিয়ে আনব।”
বছর কয়েক ধরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির হার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে উঠেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। উচ্চ এ হার পরের মাসগুলোতেও বজায় ছিল। মূল্যস্ফীতির হারে লাগাম টানতে বাংলাদেশ ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই নীতি সুদহার বাড়িয়ে আসছিল। সরকার বদলের পর দায়িত্বে আসা নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও তা অব্যাহত রাখেন; টানা বাড়ানো হয় নীতি সুদহার।
অন্য দেশের সুদের হারের সঙ্গে তাদের মূল্যস্ফীতিও আমলে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে গভর্নর বলেন, “আমাদের ইনফ্লেশন টার্গেট আমরা যদি ভারতের সাথে তুলনা করি, চায়নার সাথে তুলনা করি অন্য দেশের সাথে করি; তাদের ইনফ্লেশনটা কতখানি? ৩, ৪, ১, ০ বা নেগেটিভ।
“চায়নাতে নেগেটিভ। জাপানে নেগেটিভ হয়, মাঝে মাঝে একটু পজিটিভ হয়। ভারতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ শতাংশের মতো। আমাদের এখনো ৮। এইখানে আমাকে কাজ করতে হবে।”
আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আমার হাই ইনফ্লেশন থাকবে, ইন্টারেস্ট রেট কম থাকবে—হতে পারে না। কারণ প্রকৃত মূল্যস্ফীতিটাকে আমাকে দেখতে হবে। আমাকে কিন্তু দেখতে হবে যে, বাংলাদেশের রিয়াল ইন্টারেস্ট রেটটা।
“এখন একটু রিয়েল হয়েছে। কিছুদিন আগ পর্যন্ত এটা রিয়াল নেগেটিভ ছিল। কাজেই এখানে কিন্তু আমাদের একটা কোয়ালিটেটিভ শিফট আনতে হয়েছে এবং সেটা আনার কারণেই কিন্তু মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশনটা হচ্ছে। এটাকে আমার ধরে রাখতে হবে।”
রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো এক দিনের জন্য টাকা ধার নেয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদ হার (পলিসি রেট)। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।
রেপোর সুদ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর তহবিল পাওয়ার খরচ আরও বাড়ে। তাতে ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুদহার বেড়ে যায়।
আমানত বা ঋণের অবস্থা যাই হোক, এভাবে নীতি সুদহার ধরে রাখার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “এতে করে এখন মুদ্রার বিনিময় হার বাজারে স্থিতিশীল হয়েছে। আমি আশা করব যে, অর্থবছরের শেষ নাগাদ ইনফ্লেশন পাঁচের নিচেই যাবে।
“আমি আগে থেকেও বলছি সেটা এবং এটা আমরা নিতে পারব আশাবাদী।”
বর্তমান সরকারের নীতি যাতে পরবর্তী সরকার অনুসরণ করে, সেই আহ্বান জানিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, “তার মাধ্যমে আমরা মূল্যস্ফীতিকে ৫ বা ৪-এ নিয়ে আসতে পারব; ৩-এ নিয়ে আসতে পারব।”