০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

৬৮ বছরের পুরনো ঠিকানা ছাড়ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ

৬৮ বছর পুরনো ভবনটি ভেঙে সেখানে ১৬ তলা জাহাজ আকৃতির নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

৬৮ বছরের পুরনো ঠিকানা ছাড়ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের পুরনো ভবন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 08:36 PM

Updated : 01 Nov 2026, 08:36 PM

চট্টগ্রাম নগরীর কাস্টমস মোড়ে বন্দর ভবনের বিপরীতে ১৯৫৮ সালে নির্মিত নিজস্ব ভবনেই এতদিন চলেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কার্যক্রম। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সেটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

এর পরিবর্তে রোববার সকাল থেকে নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভাড়া করা ফ্লোরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের বন্ড গ্রুপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাস্টম হাউজের সবগুলো বিভাগ ওই ভবনে স্থানান্তর হয়ে যাবে। তারপর থেকে সব কার্যক্রম সেখানেই পরিচালিত হবে। ৬৮ বছর বয়সি পুরাতন ভবনটি ভেঙে সেই জমিতে ১৬ তলা জাহাজ আকৃতির নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা পুরনো ভবন ছেড়ে যাচ্ছি। কিছুদিন আগেই পুরনো ভবনটির অংশ বিশেষ ভাঙা শুরু হয়েছে।

“আজ (রোববার) থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বন্ড গ্রুপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্য সেকশনগুলো এখনো পুরনো ভবনেই আছে। আশা করি এ মাসের মধ্যে সব সেকশন স্থানান্তর সম্পন্ন হবে। আগামী মাসের শুরুতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে সব কার্যক্রম করা যাবে বলে আশা করি।”

Image

আগ্রাবাদ মোড়ের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভাড়া করা ফ্লোরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের বন্ড গ্রুপের কার্যক্রম রোববার শুরু হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দুটি ফ্লোরে চলবে কাস্টম হাউজের কার্যক্রম। এ জন্য তিন বছরে ভাড়া দিতে হবে ৮১ কোটি টাকা। গত ৫ মে মাসে ভাড়ার চুক্তি করা হয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সঙ্গে। দুটি ফ্লোরে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস এবং ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ ভাড়া নিয়েছে কাস্টমস হাউজ।

চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বন্ড সেকশনের কাজ শুরু হয়েছে। তেমন কোন বেগ পেতে হয়নি। সব সেকশন স্থানান্তরে একটু সময় তো দিতে হবে। আশাকরি দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোন সমস্যা হবে না।”

এদিকে পুরনো ভবন ভেঙে সেখানে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন ভবন নির্মিত হবে তথ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় নতুন কাস্টম হাউজ ভবন এবং সাগরিকা এলাকায় কাস্টম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবন হবে পার্কিংসহ ১৬ তলার জাহাজ আকৃতির। নতুন ভবনে রাসায়নিক ল্যাব, আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডরমেটরিসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে।”