চুয়েটে আন্দোলন: চতুদর্শ দিনে মানববন্ধন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিক্ষকদের এদিন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল দাবিতে চলমান আন্দোলন চর্তুদশ দিনে গড়িয়েছে।
সোমবার যথারীতি শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। এদিনও অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
একইসঙ্গে চুয়েট শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এদিন মানববন্ধন চলাকালে দেওয়া বক্তব্যে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের পক্ষে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, “অধ্যাপক সায়েম স্যারের পুনর্বহালের জন্য লম্বা সময় ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছি। তারই অংশ হিসেবে আজ মানববন্ধন করেছি। আমরা চাই সরকারের কাছে এই তথ্য পৌঁছাক যে, আমরা কী চাই।
“আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ রাখছি, যাতে আমাদের ছাত্রদের আর শিক্ষাজীবন বিলম্বিত না হয়। তাই অতি দ্রুত আমাদের দাবি মেনে, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হোক।”
তিনি বলেন, “শিক্ষক বলতে আমরা বুঝি, তারা সঠিক বিষয়টি জাতির কাছে তুলে ধরবে। আমরা সঠিক বিষয়ের জন্যই আন্দোলন করছি। অত্যন্ত অহিংস আন্দোলন।
“সড়ক অবরোধ বা সহিংস—কোনো কিছু আমাদের মধ্যে নেই। সরকারের কাছে দাবি অতি দ্রুত আমাদের ক্লাসে ফেরার সুযোগ করে দিক।”
আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন পিছিয়ে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মইনুল বলেন, “যদি কোনো সময় নষ্ট হয়, তাহলে সেই সময়গুলো কীভাবে রিকভার করা যায়, সেটা আমরা জানি। বিভিন্ন সুযোগ আছে।
“আমাদের টার্মিনাল ব্রেক ও লম্বা ছুটি আছে। সেই ছুটিগুলোতে শিক্ষার্থীদের সাথে বসে সমন্বয় করে, যে কয়টা দিন এখানে নষ্ট হয়েছে তাদের প্রত্যেকটা দিন আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব।”
এর আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা পদযাত্রা বের করেন। এটি স্বাধীনতা চত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিক্ষকদের সেখানে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের কারণে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য করা হয়।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি।
আন্দোলনের মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি সেদিন বিকাল ৪টার দিকে অনলাইনে যোগদানের কথা জানান। তবে শুক্রবার পর্যন্ত তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে যাননি।
পুরনো খবর
