নূরজাহান অয়েলের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ

এই ব্যবসায়ীদের কাছে সাউথইস্ট ব্যাংকের পাওনার পরিমাণ ১০৯৫ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 04:50 PM
Updated : 15 Sept 2022, 04:50 PM

খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকের করা আবেদনে নূরজাহান সুপার অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনের পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

সাউথইস্ট ব্যাংক জুবলি রোড শাখার করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।

অর্থ ঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইতিপূর্বে বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরও তারা পলাতক হওয়ায় তাদের বিদেশ গমন প্রতিরোধে পাসপোর্ট জব্দের আবেদন করে ব্যাংক।

“শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করে বিবাদীদের পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন।”

সাউথইস্ট ব্যাংক আদালতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করে।

বিবাদীরা হলেন- জাসমির সুপার অয়েল লিমিটেডের এমডি জহির আহাম্মেদ রতন, তার স্ত্রী ও কোম্পানির পরিচালক তাসনিম মনোয়ার, চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, নূরজাহান সুপার অয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, জাসমির সুপার অয়েলের পরিচালক ইফতেখার আল জাবের ও মো. ফরহাদ মনোয়ার।

এতে আরও বিবাদী করা হয়- জাসমির সুপার অয়েল লিমিটেড, ম্যারিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড, নূরজাহান সুপার অয়েল লিমিটেড ও তাসনিম প্রোপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

৪৬৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় সাউথইস্ট ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৫ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশসহ বিবাদীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর আরেকটি মামলায় ২৪২ কোটি টাকা পরিশোধ না করায় ৫ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় জহির আহাম্মেদ রতনের বিরুদ্ধে।

আর ১৩ সেপ্টেম্বর ২৬৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় জহির আহাম্মেদ ও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আটকাদেশসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চারটি মামলার বিপরীতে বিবাদীদের কাছে সাউথইস্ট ব্যাংকের মোট পাওনা ১০৯৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

আদালতের আদেশে বলা হয়, বিবাদীদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে ২০টি মামলার বিপরীতে মোট পাওনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের করা এরকম একটি মামলায় জহির আহাম্মদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আটকাদেশ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন একই আদালত।

আদেশে বলা হয়, এরপর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিবাদীকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং তিনি কোনো পাওনা পরিশোধ করেননি। এমনকি মামলাগুলোতে আদালতেও হাজির হয়নি।

এই ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেনা আদায় না হওয়ায় এবং তারা আদালতের এখতিয়ারে না আসায় ব্যাংকিং খাতে আস্থাহীনতা ও আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আদেশে আদালত বলে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল না হওয়ায় এসব মামলা নিষ্পত্তিও সম্ভব হচ্ছে না।

এ কারণে সাউথইস্ট ব্যাংকের আবেদন মঞ্জুর করে বিবাদীরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আদেশের কপি পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক