চট্টগ্রামে রোকসানা হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল কোরবানীগঞ্জে আমিন ম্যানসনের ভাড়া বাসায় খুন হন গৃহিণী রোকসানা বেগম মনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 02:16 PM
Updated : 30 Jan 2024, 02:16 PM

চার বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানীগঞ্জে বাসায় ঢুকে এক গৃহবধুকে হত্যার দায়ে এক যুবকের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম সিরাজাম মুনীরা মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত সোহেল চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদ পুকুরিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার সময় সোহেল নগরীর বাকলিয়া থানার ময়দার মিল এলাকায় নুরুল হক হাজীর কলোনির বাসিন্দা ছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি বিহি চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একমাত্র আসামি মোহাম্মদ সোহেলকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এছাড়া ৩৯৪ ধারায় ১০ বছরের সাজা, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আসামিকে। 

রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান বিহি চক্রবর্তী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল কোরবানীগঞ্জে আমিন ম্যানসনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসায় খুন হন গৃহিণী রোকসানা বেগম মনি।

তিনি খাতুনগঞ্জের গম ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের স্ত্রী। দুই ছেলে নিয়ে এই দম্পতি ওই বাসায় থাকতেন।

পিপি বিহি চক্রবর্তী বলেন, কাশেমের গ্রামের বাড়ির এলাকার ছেলে হওয়ায় তাদের বাসায় সোহেলের আসা যাওয়া ছিল। ওই বাসায় কোথায় মূল্যবান কী আছে, সে সম্পর্কে ধারণা পেয়ে তিনি লুটের পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার দিন সোহেল ওই বাসায় গিয়ে পেটে, পিঠে ও হাতে ছুরিকাঘাত করে রোকসানা বেগমকে হত্যা করে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়।

এরপর গৃহপরিচারিকা ইয়াসমিন আক্তার বাসায় গেলে তাকে ছুরির ভয় দেখিয়ে বাথরুমে বসিয়ে রাখে। রোকসানার ছেলে আব্দুল আজিজ বাসায় গেলে তার পেটেও ছুরিকাঘাত করে সোহেল।

ওই বাসা থেকে একটি ল্যাপটপ, ৫০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল, রোকসানার স্বর্ণালংকার এবং রোকসানার হাতব্যাগে থাকা সিটি গ্রুপের পামওয়েলের ৩২ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি ডিও নিয়ে যায় সোহেল।

রোকসানাকে যে কক্ষে হত্যা করা হয়, সেখানে বিছানায় আগুন লাগিয়ে আলামত নষ্টেরও চেষ্টা করেন সোহেল।

পরে রোকসানার ছেলে আব্দুল আজিজ কৌশলে ভবনের নিচে নেমে গেলে সোহেল ওই ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল ওই এলাকায় আব্দুস সোবহান নামের এক পথচারীকেও ছুরিকাঘাত করেন। 

ঘটনার পরদিন রোকসানার স্বামী বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। সেদিন অভিযান চালিয়ে পুলিশ সোহেলকে গ্রেপ্তার করে।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক।