চবির মূল ফটক আটকালে ‘শাস্তি'

ছাত্রলীগের কয়েক দফা অবরোধের পর এ সিদ্ধান্ত এল।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 02:05 PM
Updated : 22 Sept 2022, 02:05 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে ছাত্রলীগের বিক্ষোভের কারণে গত দুই মাসে কয়েকবার শিক্ষা কার্যক্রম অচল হওয়ার পর এ ধরনের ঘটনায় কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত জানাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেউ যদি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় অথবা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।

“সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ও পরিবহন দপ্তরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিসসমূহ বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পূর্বনির্ধারিত ক্লাস, পরীক্ষা ও সেমিনার আয়োজনে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

“এছাড়া অ্যাকাডেমিক ও দাপ্তরিক কাজে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সেবাপ্রার্থীদেদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হয়।"

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ’ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।

রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন আচরণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি বহিরাগত কেউ করে, তাহলে পুলিশের সহায়তায় শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”

Also Read: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্রলীগের অবরোধ

গত ৩১ জুলাই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ১ অগাস্ট ভোর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে এবং শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস আটকে অবরোধ শুরু করে পদপ্রত্যাশীরা।

একদিন পর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর অবরোধ তুলে নেয় তারা।

এরপর ১১ সেপ্টেম্বর এবং সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ছয়টি গ্রুপের নেতাকর্মীরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে একই কায়দায় অবরোধ করলে বিশ্ববিদ্যালয় আবার অচল হয়ে যায়।

এই পক্ষটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নাছিরের আশ্বাসে অবরোধ সাময়িক স্থগিত করার কথা তারা জানিয়েছিল।

এর দুদিন বাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক