Published : 07 Jan 2024, 07:18 PM
চট্টগ্রামের পটিয়ার একটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারসহ দুই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে জালভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার বেলা সোয়া ২টার দিকে জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা ব্যালট কেড়ে নিয়ে শতাধিক ভোট দেয়।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অধ্যাপক রুপেন বড়ুয়া বলেন, “বেলা ২টার আগে পর্যন্ত সুন্দরভাবেই ভোট চলছিল। হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ ব্যক্তি এসে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। দ্রুত আমি বুথে গিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি।
“তারা আমাকে ও আমার সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বুথে ঢুকে জালভোট দেওয়া শুরু করেন।”
কেন্দ্রে বসে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন অধ্যাপক রুপেন।
“তারা বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করলে আমি গেইটে তালা দিয়ে দিই। তারা গেইট ভাঙতেও চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি, আমাকে দিয়ে কোনো অবৈধ কাজ হবে না। এরপর বিভিন্ন বুথে ঢুকে তারা শতাধিক ব্যালটে ভোট দেন।”
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর ৪৫ মিনিটর পর ফোর্স পাঠানো হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও তিনি জানিয়েছেন।
রূপেন বড়ুয়া বলেন, “যে ভোট তারা দিয়েছেন, তাতে কারো স্বাক্ষর নেই। ফলে এসব ভোট বাতিল হয়ে যাবে।”
ওই কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা মোট ছয়টি। এর মধ্যে তিনটি নারীদের, বাকি তিনটি পুরুষের। প্রতিটিতেই নৌকার সমর্থকরা এসে ভোট দেয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
পোলিং অফিসার ও নৌকা ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্টরা জানান, হামলাকারীরা দ্রুত এসে ব্যালট ছিড়ে নিয়ে বাক্সে ভোট ভরে দেন। এসব ব্যালটে স্বাক্ষর ছিল না। নারীদের ৫ নম্বর বুথে ৭৫টি ব্যালটের ছেড়া মুড়ি পাওয়া যায়। এসব পেপারে কোনো স্বাক্ষর ছিল না।
এ ছাড়া নারীদের ৪ নম্বর বুথের ৯২টি ব্যালট পেপার এবং পুরুষের ৩ নম্বর বুথে ৪৭টি ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে হামলাকারীরা ভোট দেয় বলে অন্য প্রার্থীর এজেন্টরা জানিয়েছেন।
বেলা ৩টার পর ওই কেন্দ্রের ভেতর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, ভেতরে কোনো ভোটার দেখা যায়নি।
এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৭০ জন।