মিথ্যা মামলায় শিশুকে আসামি: জামিন নিলেন ২ পুলিশ সদস্য

ওই শিশুর বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর দুই এসআইর বিরুদ্ধে খোদ বিচারক মামলা করেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 01:53 PM
Updated : 19 Sept 2022, 01:53 PM

স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে এক শিশুকে মিথ্যা মামলার আসামি করে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় বিচারকের করা মামলার আসামি দুই পুলিশ সদস্য জামিন নিয়েছেন।

সোমবার চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম জুয়েল দেব তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তারা হলেন- এসআই আনোয়ার হোসেন ও এসআই সুবীর পাল।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আত্মসমর্পণ করে দুজন জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।”

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) ফেরদৌস আরা বাদী হয়ে হাকিম জুয়েল দেবের আদালতে মামলাটি করেছিলেন।

এতে অভিযোগ করা হয়, শুল্ক পরিশোধের কাগজ থাকা স্বত্ত্বেও স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায় এক শিশুকে আসামি করে মিথ্যা মামলা করেন এবং আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন এই সংক্রান্ত মামলার বাদী ও তদন্তকারী দুই পুলিশ সদস্য।  

সেদিন আদালত মামলাটি গ্রহণ করে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিল।

২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল শিশুটির (১৫) বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন পতেঙ্গা থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন। ওই শিশুর বিরুদ্ধে রাজস্ব পরিশোধ ছাড়া দুটি সোনার বার পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল রাত পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বাটারফ্লাই পার্কের সামনে তল্লাশি চৌকি থেকে শিশুটিকে আটক করা হয়। তখন তার কাছে দুটি সোনার বার ছিল।

কুমিল্লার বাসিন্দা শিশুটির মায়ের দাবি, তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে সেদিন পতেঙ্গায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল। শিশুটির চাচা বাহারাইন থেকে প্রতিবেশী এএইচএম সুমনের মাধ্যমে কিছু জিনিসপত্রের একটি প্যাকেট পাঠান। সুমনকে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ পরিদর্শক আটক করলে বিধি মোতাবেক শুল্ক পরিশোধ করে পরে তিনি সোনার বার দুটি নেন। সেই সোনার বার দুটি প্যাকেটে নিয়ে ফেরার পথে আটক করে পুলিশ শিশুটিকে পতেঙ্গা থানায় নিয়ে যায়।

Also Read: কিশোরকে আসামি করে মিথ্যা মামলা, এবার দুই পুলিশ আসামি

মায়ের অভিযোগ, পরদিন সকালে খবর পেয়ে শিশুটির মা-বাবা থানায় গেলে পুলিশ ‍দুটি সোনার বারের মধ্যে একটি দাবি করে। এতে রাজি না হওয়ায় শিশুটিকে মামলার আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় এসআই আনোয়ারের মামলায় শিশুটি এক মাস ছয় দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হন।

২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর পতেঙ্গা থানার এসআই সুবীর পাল এ মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় চলতি বছরের ১১ এপ্রিল বাদী আনোয়ার হোসেন ও আইও সুবীর পাল আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আদালতে রাজস্ব পরিশোধের নথিপত্র জমা দেওয়া হয়। রাজস্ব কর্মকর্তা এসে নথি দেখিয়ে নিশ্চিত করেন, এ দুটি সোনার বারের জন্য রাজস্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানান, রাজস্ব পরিশোধের নথি যাচাই করা হয়নি।

পরে গত ৪ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ রায় দেয়, কাগজপত্র আমলে না নিয়ে মিথ্যা মামলা, আদালতে শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় ওই শিশুকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

পরে শিশুটির পক্ষে ওই মামলার বাদী ও আইওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হলে বিচারক নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন ১৩ সেপ্টেম্বর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক